সংকটের অর্থনীতিতে এই বাজেট স্বস্তির বার্তা: বিকেএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬ । ৬:৪২ অপরাহ্ণ

বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে শিল্প ও বিনিয়োগকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে সামগ্রিকভাবে সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। তবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, উচ্চ ঋণসুদ এবং কিছু করনীতির বিষয়ে উদ্বেগও তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (১২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এসব বলেন। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে তৈরি পোশাক শিল্পের দুটি প্রধান প্রত্যাশা ছিল করব্যবস্থার সংস্কার এবং চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আমদানি সহজীকরণ। এ দুটি ক্ষেত্রেই সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সন্তোষজনক হয়েছে।

বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর সুবিধা সম্প্রসারণ এবং মধ্যমেয়াদি নীতিকাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়ার উদ্যোগ শিল্প খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, মাউন্টিং স্ট্রাকচার ও সংশ্লিষ্ট উপকরণের ওপর কর সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।

মোহাম্মদ হাতেম জানান, দীর্ঘদিন ধরে শিল্পখাতের দাবি ছিল উৎসে কর্তিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) সমন্বয়, বহন বা ফেরতের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা। বাজেটে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। কারণ সময়মতো এআইটি সমন্বয় বা ফেরত না হলে ব্যবসার কার্যকর মূলধন আটকে যায়, তারল্য সংকট তৈরি হয় এবং ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায়।

রপ্তানিমুখী নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি এবং দেশীয় বন্ডেড প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবকেও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিদ্যমান সুবিধা বহাল রাখা এবং বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধার মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

তবে পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কর আরোপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিকেএমইএ। সংগঠনটির মতে, বর্তমানে দেশে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান এ পণ্য উৎপাদন করে, যার উৎপাদন মোট চাহিদার ১০ শতাংশেরও কম। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা যেন রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগী সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়েও নজর দিতে হবে।

বাজেটে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিকেএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, শিল্পায়ন ও নতুন বিনিয়োগের পথে জ্বালানি সংকট এখনও অন্যতম বড় বাধা। সৌরবিদ্যুৎ আংশিক সমাধান দিতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই।

উচ্চ ঋণসুদকেও শিল্প বিনিয়োগের বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা পরিচালনা সম্ভব নয়। ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানান মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো শিল্পভূমি, মূলধন সহায়তা, শ্রমিক মজুরি সহায়তা এবং রপ্তানি প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছে। ফলে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশকেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে হবে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাজেটে কিছু আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে সংকটে থাকা ও বন্ধ কারখানাগুলোর জন্য সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে শিল্প উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সামগ্রিকভাবে বাজেটের নীতিগত দিককে ইতিবাচক উল্লেখ করে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সহজ ও কার্যকর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে এসব উদ্যোগ বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্প পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন