মে মাসে সড়কে ঝরেছে ৬২২ প্রাণ, আহত ১৬৫২: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬ । ৩:০৪ অপরাহ্ণ

গত মে মাসে দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। এক মাসেই মোট ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত এবং এক হাজার ৬৫২ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথ ও নৌপথের দুর্ঘটনাও পিছিয়ে ছিল না। রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন এবং নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত, ১৫ জন আহতসহ সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। সব মিলিয়ে দেশের তিন পথ মিলিয়ে সর্বমোট ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং এক হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে সংগঠনটির দাবি, সংবাদপত্রে স্থান না পাওয়া অনেক ঘটনা বাদ পড়ায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

শনিবার (১৩ জুন) সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মে মাসেও সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও দুর্ঘটনার কারণ ছিল মোটরসাইকেল। এই সময়ে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত এবং ২১৯ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬.০৫ শতাংশ, নিহতের ৩৭.১৩ শতাংশ এবং আহতের ১৩.২৫ শতাংশ।

বিভাগীয় হিসাব অনুযায়ী, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে; যেখানে ১৮০টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত ও ৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে; সেখানে ২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন।

মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৩৯ জন চালক, ১২১ জন পথচারী, ১১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, ৮ জন শিক্ষক, ৯৩ জন নারী, ৬৮ জন শিশু, ২ জন চিকিৎসক, ৩ জন সাংবাদিক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১ জন আইনজীবী এবং ৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় মে মাসে মোট ৯৭৫টি যানবাহনের সম্পৃক্ততা মিলেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮.৬৯ শতাংশ ছিল মোটরসাইকেল। এ ছাড়া ২৩.১০ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৪.৪৫ শতাংশ বাস, ১২.৯৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৬.৫৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৭.৪৮ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৬.৭৫ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এসব দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৪২.০৮ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২.৩০ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা, ১৮.৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া, ৫.৫৪ শতাংশ বিবিধ কারণ, ০.৮১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ এবং ০.৩২ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সংগঠিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার স্থান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মে মাসের মোট দুর্ঘটনার একটি বড় অংশ ঘটেছে মহাসড়কগুলোতে। এর মধ্যে ৪৪.৬৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.৬৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ১৮.১০ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫.২২ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০.৮১ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন