বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে মাসে ৩২ হাজার টাকা আয়কারী একজন মানুষকে মধ্যবিত্ত বলা যায় কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনেরর সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বাস্তবে এই সীমা এখনও অনেক সাধারণ আয়ের মানুষকে করের আওতায় নিয়ে আসছে।’
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এই প্রশ্ন তুলেন। তিনি বলেন, সরকার করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করেছে। এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তা যথেষ্ট নয়।
রমিন বলেন, ‘যার মাসিক আয় ৩২ হাজার টাকা, তার বার্ষিক আয় দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ তিনিও করযোগ্য আয়ের আওতায় চলে আসেন। প্রশ্ন হলো, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে ৩২ হাজার টাকা মাসিক আয়কারী একজন মানুষকে কি মধ্যবিত্তও বলা যায়?’
রুমিন ফারহানা বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
আয় বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন বলেন, দেশের মোট সম্পদের ৫৮ শতাংশ রয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের হাতে। অন্যদিকে শীর্ষ ১ শতাংশ মানুষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মোট সম্পদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
কর ব্যবস্থার ফাঁক-ফোকর নিয়ে রুমিন ফারাহানা বলেন, কর ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে সেইসব মানুষের ওপর, যাদের আয় সহজে শনাক্ত করা যায় এবং যারা নিয়মিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মধ্যে থাকে। কিন্তু যাদের প্রকৃত আয় অনেক বেশি, তাদের একটি বড় অংশ এখনও কার্যকরভাবে করের আওতায় আসছে না। তিনি বলেন, আয়করের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে সেইসব মানুষের ওপর, যাদের আয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সহজে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু যাদের প্রকৃত আয় কর ব্যবস্থার বাইরে থেকে যায়, তাদের বড় অংশ এখনও কার্যত করের আওতার বাইরে।
কর কাঠামোর সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও প্রত্যক্ষ করের তুলনায় পরোক্ষ করের ওপর বেশি নির্ভরতা বজায় রাখা হয়েছে। বাজেটে প্রত্যক্ষ করের অংশ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হলেও পরোক্ষ করের অংশ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।
তার মতে, পরোক্ষ কর ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার ওপর সমান প্রভাব ফেলে, যা কর ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো সাধারণত প্রত্যক্ষ করের ভিত্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সঙ্গত করার চেষ্টা করে।
বাজেট আলোচনায় রুমিন সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং কমে আসা প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সূচক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে না।
তবে বক্তব্যের শুরুতে রুমিন কৃষিপণ্যের উৎসে কর কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তার মতে, চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে এই উদ্যোগ কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
করমুক্ত আয়সীমা ও কর কাঠামো নিয়ে বক্তব্যের মাধ্যমে রুমিন ফারহানা মূলত মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর করের প্রভাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬ । ৭:৫৭ অপরাহ্ণ