দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অবৈধ দখলে থাকা মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমের শতবর্ষী প্রাচীন ‘নয়নের খাল’ পুনরুদ্ধারের দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে খালটির পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে এ আলটিমেটাম দেন তিনি। এসময় খালটির স্বাভাবিক নাব্য ফিরিয়ে আনতে তাৎক্ষণিক বিশেষ বরাদ্দের ঘোষণা করেন প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে, সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় অস্তিত্ব হারাতে বসা খালগুলোর বেহাল পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। এ সময় দীর্ঘ দিনেও কেন অবৈধভাবে খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, সরকার সারা দেশে নদী-খাল রক্ষায় কাজ করছে। মিরকাদিমের নয়নের খালের ক্ষেত্রেও একইভাবে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ সফল হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, খাল, নদী ও জলাশয় রাষ্ট্রের সম্পদ। এগুলো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে নয়নের খাল যেভাবে দখল ও দূষণের শিকার হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে খাল দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তালিকা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। খালের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করে গাইড লাইন করে দেওয়া হবে। পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কাজ আজ থেকেই শুরু হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশনা দেব। খাল উদ্ধার শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়।
খাল দখল হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, পরিবেশ দূষিত হয় এবং মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাই নয়নের খাল পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে কেউ যেন পুনরায় নতুন করে খাল দখল করতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি জোরদার করার কথা জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন।
তিনি বলেন, বছরের পর বছর প্রভাবশালীরা খালের জায়গা দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গরুর খামার ও বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা ফেলায় খালটি প্রায় নর্দমায় পরিণত হয়েছে।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন, মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দ আন নূর মহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
খালটির দুই পাড়ে অন্তত প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। এক সময় ৩৫ থেকে ৪০ ফুট প্রশস্ত খালটির বর্তমানে কোথাও ৫ থেকে ১০ ফুটে নেমে এসেছে, আবার কোথাও খালের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে গেছে।
খালটি দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করা হলে এলাকার পরিবেশের উন্নতি হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬ । ৩:৩৯ অপরাহ্ণ