চাঁদাবাজি থামাতে না পারলে দেশ চালানোর অধিকার নেই: জামায়াত আমির

মুন্সীগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬ । ৯:৪২ অপরাহ্ণ

রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে সারাদেশে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ব্যবস্থা টিকে আছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সরকারি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কোনো দল যদি তাদের কর্মীদের সামাজিক অপকর্ম থেকে বিরত রাখতে না পারে, তবে সেই দলের দেশ পরিচালনার নৈতিক অধিকার থাকে না।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে মুন্সীগঞ্জের পুরাতন কাচারি চত্বর এলাকায় এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। রয়েল পার্টি সেন্টারে জেলা জামায়াতের বার্ষিক সদস্য (রুকন) সম্মেলন উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।

জামায়াত আমির বলেন, অতীতের তিন বার সংবিধান উপেক্ষা করে জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও বেগম খালেদা জিয়ার গণভোটের স্বীকৃতি দেওয়া হলেও- ২০২৬-এর নির্বাচনের গণভোটকে বিএনপি অস্বীকার করছে।

শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিলেও বিএনপি সরকার গঠনের পরে যেভাবে প্রতারণা করেছে গণভোটকে অস্বীকার করে, তা দেশের মানুষকে ব্যথিত করেছে। ফলে দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য শেষ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

ডা.শফিকুর রহমান বলেন, সারা দেশে চাঁদাবাজির মতো বিষফোঁড়া ধ্বংস করে দিলেই- সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে। কারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, তা জনগণ জানে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে চাঁদাবাজি কমছে না, বরং বাড়ছে।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ব্যবস্থা টিকে আছে। কোনো দল যদি তাদের কর্মীদের সামাজিক অপকর্ম থেকে বিরত রাখতে না পারে, তবে সেই দলের দেশ পরিচালনার নৈতিক অধিকার থাকে না। তিনি বলেন, যে দল নিজেদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তারাই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

জামায়াত আমির বলেন, সরকার বিভিন্ন পণ্যে কর কমালেও সাধারণ মানুষ তার সুফল পাচ্ছে না। কারণ বাজারের বিভিন্ন খাত সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া কখনোই কোনো সিন্ডিকেট টিকে থাকতে পারে না বলে উল্লেখ করে।

ব্যবসায়ীদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, কিছু গোষ্ঠীর কারণে অনেক ব্যবসায়ী স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন না। চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে তারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

গণমাধ্যম প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সংবাদমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং সমাজের দর্পণ। সাংবাদিকদের উচিত সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে তুলে ধরা। গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারলে সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি ও পেশিশক্তির আধিপত্য টিকতে পারে না।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা দলের ভুল থাকলে তা সাহসের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।

ডা. শফিক বলেন, সাংবাদিকরা সৎ ও কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখলে, আগামীর বাংলাদেশ হবে মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন। সেখানে গরিব-ধনী নির্বিশেষে সবাই সমান বিচার পাবে। রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন