আগামী ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তারা নানা কর্মসূচি পালন করে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। দলটি যোনো মাথাচাড়া না দিতে পারে এজন্য সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত বার্ষিক পুনর্মিলনী ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইশরাক এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী সরকার বিদায় নিলেও তাদের রেখে যাওয়া অপকর্ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের সংস্কৃতি পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে। কোনোভাবেই যাতে সেই শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
ইশরাক বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূর করা এবং একটি স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে সব সময় থাকার অঙ্গীকার জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট যেন আরও শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে কাজ করে যাবেন।
ইশরাক বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ার পরিচয় সব সময় সাহস ও প্রেরণা দিয়েছে। জীবনের নানা প্রতিকূল সময়ে, বিশেষ করে ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের সময় এই পরিচয় থেকেই শক্তি পেয়েছি। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেয়ার কারণে আমাকে কারাগারে যেতে হয়েছে, বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু এসব বাধা-বিপত্তি আমাকে অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা যখন রাজপথে আন্দোলন করছিলেন, তখন তাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল, নির্যাতন করা হয়েছিল। একই সময়ে দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচারের অভিযোগও ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রসমাজ উপলব্ধি করেছিল যে বৈষম্য ও নিপীড়নের অবসান ঘটাতে হলে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসান প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য নিয়েই তারা আন্দোলনে নেমেছিল এবং শেষ পর্যন্ত নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬ । ৫:৪৮ অপরাহ্ণ