আমলা নয়, ট্যাক্স নীতি তৈরিতে দক্ষদের যুক্ত করা হবে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ । ৩:০৮ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের কর ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান সমস্যা নীতিমালা প্রণয়ন। এ কারণে করনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমলাদের পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ ও কর বিশেষজ্ঞদের (ট্যাক্স এক্সপার্ট) অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন করা গেলে কর ব্যবস্থার অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাজেট সংলাপ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নীতিনির্ধারণ। নীতিনির্ধারণ সঠিকভাবে করা গেলে ৫০ শতাংশ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

আমরা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের চাই, আমলাদের নয়। আমলাদের কাজ হলো নীতি বাস্তবায়ন করা।
ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ডি-রেগুলেশন বাস্তবায়ন এবং ব্যবসার পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। দেশের জন্য যারা কাজ করবে না, তাদের আমাদের প্রয়োজন নেই। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, তাই আমাদের দায়বদ্ধতা জনগণের প্রতি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি অতিনিয়ন্ত্রিত (ওভার-রেগুলেটেড) দেশ। ব্যবসায়ীদের প্রতিটি ধাপে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এই আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসতে আমরা কাজ করছি। কোথাও ডি-রেগুলেশনের ব্যত্যয় ঘটলে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমাদের জানান। টাস্কফোর্স বিষয়টি দেখবে।

কর ফাঁকির সংস্কৃতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের কর না দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অনেক আইনজীবী, চিকিৎসক এবং অসংখ্য দোকান ও রেস্তোরাঁ মালিক এখনো করজালের বাইরে রয়েছেন। আমরা কাউকে চাপ দিতে চাই না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বছরে মাত্র ২ হাজার টাকা ফ্ল্যাট রেট কর দিয়েই করের আওতায় আসতে পারবেন। কোনো ধরনের ফরম পূরণের ঝামেলাও থাকবে না। মানুষের মন থেকে করভীতি দূর করতে হবে।

শিল্প ও রপ্তানি বাণিজ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিল্পের কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে। শুধু তৈরি পোশাক শিল্প নয়, সব ধরনের রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণের জন্য বন্ড সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলসি বাধ্যতামূলক না করে সরাসরি রেমিট্যান্স বা টিটির (টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার) মাধ্যমে বাণিজ্যের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ব্যবসার খরচ কমবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি প্রকল্পের প্রস্তুতি নিতেই যদি দুই বছর সময় লেগে যায়, তাহলে সেই প্রকল্পের কার্যকারিতা অনেকাংশে কমে যায়। এর উচ্চ ব্যয় দেশের মানুষকেই বহন করতে হয়। আমরা এখন সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছি।

অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ এবং বিজিএমইএর সহ-সভাপতি এনামুল হক।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন