গভর্নরকে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ । ২:৫৯ অপরাহ্ণ

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৭ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা না হয় তাহলে আগামী বুধবার (২৪ জুন) সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ফটকের সামনে থেকে এই আল্টিমেটাম ও নতুন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক।

এর আগে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মতিঝিলে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে সচেতন গ্রাহ ফোরামের ব্যানারের মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিছিলটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে পুলিশের বাধার মুখে সেটি থামিয়ে দেওয়া হয়।

আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের ৭ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তারা জানতে পেরেছেন, তাদের দাবি উপেক্ষা করে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংকটির পর্ষদে বসানোর পাঁয়তারা চলছে। কিন্তু, তারা সেটি হতে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন।

অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, তিন কোটি গ্রাহকের এই ব্যাংকটিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে তাদের আবেগকে সম্মান জানাতে হবে। যদি গ্রাহকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী পর্ষদ গঠন করা না হয়, তবে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই পর্ষদকে পুনরায় প্রতিহত করতে বাধ্য হবে।

বর্তমানে ব্যাংকটিতে পরীক্ষা ছাড়া এবং অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে জানিয়ে, তা কঠোর হস্তে দমন করার আহ্বান জানান এই গ্রাহক নেতা। পাশাপাশি আজকে সচেতন গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে যে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে, তা সম্বলিত স্মারকলিপি আকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে নিজেদের ৭দফা দাবি সম্পর্কে ব্রিফিং করেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের দাবিগুলো হলো-

১. যোগ্য, অভিজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন পেশাদার বোর্ড অফ ডিরেক্টরস গঠন করতে হবে।

২. ২০১৭ সালে গায়ের জোরে কেড়ে নেওয়া মালিকানা ব্যাংকের প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে।

৩. এস আলম গ্রুপসহ যারা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও পাচার করেছে, তাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৪. ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বন্ধ করতে হবে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার রোধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং এস আলমের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।

৬. ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮(ক) ধারা সংশোধন করে চিহ্নিত লুটপাটকারী ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংকিং খাতের পরিচালনা পর্ষদে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করতে হবে।

৭. জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

কালের আলো/এসএকে

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন