বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেই চূড়ান্ত ফর্মে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সে দুর্দান্ত ফর্মে থেকেই আজ গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নামেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এ ম্যাচের শুরুতেই গোল করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক হওয়ার দারুণ এক সুযোগও এসেছিল তাঁর সামনে। তবে মেসি যেন প্রমাণ করলেন, ফুটবল জাদুকর হলেও তিনিও মানুষ। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। তবে স্পটকিক কাজে লাগাতে না পারলেও ৩৮ মিনিটের মাথায় জালের দেখা পান তিনি, করেন ঐতিহাসিক গোল, মিরোস্লাভ ক্লোসাকে টপকে হয়ে যান বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের মালিক।
এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ মূহুর্তে ইনজুরি টাইমে আরও এক গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এলএমটেন। তাঁর জোড়া গোলেই অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই অস্ট্রিয়ার ডি বক্সে ফাউলের শিকার হন লাউতারো মার্তিনেজ। শুরুতে রেফারি বাঁশি না বাজালেও মার্তিনেজকে চোটে কাতরাতে দেখে খেলা থামান রেফারি।
এরপর ভিএআর চেকের সিদ্ধান্ত হয়। ভিএআরে চেক করে দেখার পর পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। আর স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন লিওনেল মেসি। তবে দলকে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।
স্পটকিক হালকা চালে শট নিলেও তা লক্ষ্যে পাঠাতে পারেননি। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির নেওয়া শট চলে যায় গোলপোস্টের ডান দিকে বেশ বাইরে দিয়েই। পেনাল্টি মিস করে লজ্জার এক রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। ফিফার এ টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডে এখন সবার উপরে আর্জেন্টাইন জাদুকরের নাম।
বিশ্বকাপে এতদিন ঘানার আসামোয়া জিয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ দুটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি। আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করে অনাকাঙ্খিত রেকর্ডটি রেকর্ডটি একার দখলে নিলেন। বিশ্বকাপে এখন সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ড মেসির। ২০১৮ বিশ্বকাপে আইসল্যান্ড, ২০২২ বিশ্বকাপে পোল্যান্ড এবং এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করলেন। প্রথম দুবার গোলকিপার তাঁর শট ঠেকান। এবার মেরেছেন পোস্টের বাইরে।
এদিকে মেসির পেনাল্টি মিসের পর গোলের দেখা পেতে মরিয়া হয়ে লড়াই শুরু করে আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়াও জমাট রক্ষণে আলবিসেলেস্তেদের পরাস্ত করতে থাকে। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি অস্ট্রিয়ানরাও বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল, তবে সেসব কাজে লাগাতে পারেনি দলটি।
এদিকে গোলের লক্ষ্যে মরিয়া আর্জেন্টিনা ১৯ মিনিটে গোলের দারুণ এক সুযোগ পায়। ম্যাচের ১৯ মিনিটে দারুণ এক পাসে মেসিকে বল এগিয়ে দিয়েছিলেন মার্তিনেজ। প্রতিপক্ষের বক্সের ভেতরে শট নেওয়ার সুযোগও ছিল আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির। তবে শেষ পর্যন্ত নিতে না পারায় গোলের সুযোগ বঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। এরপর ম্যাচের ৩১ মিনিটেও মেসি ও এঞ্জো ফার্নান্দেজের রসায়নে আর্জেন্টিনার গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আর আর তা হয়নি।

এদিকে একের পর এক সুযোগ হারানোর পর অবশেষে ম্যাচের ৩৮ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। বাঁ দিকের উইং থেকে দারুণ এক পাসে বল ডি বক্সে এগিয়ে দেন থিয়াগো আলমাদা। মাঝে ফাকুন্দো মেদিনার শট নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি না নিয়ে ডামি ক্রসে বল মেসির পায়ে দেন। আর দারুণ এক শট জালের ঠিকানা খুঁজে নেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। সেই সঙ্গে ক্লোসাকে তপকে হয়ে যান বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, ১৭টি গোলের মালিক। মেসির এই গোলেই এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
বিরতির পর ম্যাচের ৫৭ মিনিটে শুরুর একাদশে পরিবর্তন আনেন লিওনেল স্কালোনি। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে উঠিয়ে মাঠে নামান নিকোলাস ওতামেন্দিকে। এরপর ৬৪ মিনিটে দলে আরও দুই পরিবর্তন আনেন আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড। লাওতারো মার্তিনেজ ও থিয়াগো আলমাদার বদলে মাঠে নামান হুলিয়ান আলভারেজ ও নিকো গঞ্জালেজকে। অস্ট্রিয়াও শুরুর একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনে।
এদিকে দুই দলই একাদশে পরিবর্তন আনলেও দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের আগে তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কেউ। পানি পান বিরতির পর ৭৪ মিনিটে ম্যাচে প্রথম কর্ণার পায় আর্জেন্টিনা। মেসির বাড়িয়ে দেয়া বলে গোলের সুযোগ এসেছিল নিকো গঞ্জালেজের সামনে। তবে তিনি তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ৮১ মিনিটে গোলের সুযোগ এসেছিল অস্ট্রিয়ার। তবে মেদিনা কর্ণারের বিনিময়ে তা প্রতিরোধ করেন। ৮২ মিনিটে ডি পল এবং মেদিনার বদলে লিয়ান্দ্রো পারাদেস ও নিকোলাস তালিয়াফিকোকে মাঠে নামান স্কালোনি।
দুই দলই একাধিক পরিবর্তন আনলেও ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ যেন কিছুটা ঝিমিয়েই পড়েছিল। আর ঝিমিয়ে পড়া সেই ম্যাচ শেষের একেবারে আগমূহুর্তে ফের প্রাণ ফিরিয়ে আনেন মেসি। ইনজুরি টাইমের একেবারে শেষে দলের হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।
যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে তখন অস্ট্রিয়া বক্সের ভেতরে ছোটখাটো একটা ঝড়ই বয়ে গেল তখন। সেই ঝড়ে শেষ পর্যন্ত মেসির মুখেই ফুটল শেষ হাসি। প্রথমে আলভারেজের শট অস্ট্রিয়া ডিফেন্ডারের গায়ে লাগল। ফিরতি বলটা পেলেন মেসি। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তাঁর শট ঠেকান আরেক ডিফেন্ডার। আবারও ফিরতি বলে মেসির শট এবং গোল করেন এলএমটেন। তাঁর এই গোলেই দ্বিগুণ হয় ব্যবধান। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা মাঠ ছাড়ে ২-০ গোলের দারুণ এক জয় নিয়ে।
কালের আলো/এসআর/এএএন

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬ । ১:২০ পূর্বাহ্ণ