দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই) খাতকে আরও গতিশীল করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এমএসএমই খাত যত বেশি শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত হবে, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিও তত বাড়বে। একই সঙ্গে শিল্প খাতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে গ্যাস সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এমএসএমই) দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে এমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩৪ শতাংশ। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় শিল্পের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই সরকারের লক্ষ্য নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা।
তিনি জানান, এমএসএমই খাতের বিকাশে বিসিক শিল্পনগরীর পাশাপাশি নতুন শিল্প পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নীতিগত সহায়তা জোরদারে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার আশানুরূপ ছিল না। পাশাপাশি গ্যাসের ঘাটতির কারণে অনেক শিল্পকারখানা তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারেনি। এর প্রভাব অর্থনীতির পাশাপাশি আয়বৈষম্যের ওপরও পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং শিল্প খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিল্পাঞ্চল ও শিল্প পার্কগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া খাতসংশ্লিষ্টরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও বাজারসুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান। তারা বলেন, এমএসএমই খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
কালের আলো/এসআর/এএএন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬ । ৬:২১ অপরাহ্ণ