‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা অনুমোদন হওয়ায় এমপি আক্তারুজ্জামান বাচ্চুকে গণসংবর্ধনা

মোঃ শামসুল আলম খান:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬ । ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন আটটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন হওয়ায় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার পাগলা থানার কান্দিপাড়া আস্কর আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনন্দ মিছিল, গণসমাবেশ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চুকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এর আগে বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় নতুন ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলার বিদ্যমান ১৩টি উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন ১৪তম উপজেলা।

স্থানীয়দের ভাষ্য ও অফিসিয়াল তথ্যমতে, পাগলা অঞ্চলে পৃথক প্রশাসনিক ইউনিট প্রতিষ্ঠার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। তারা জানান, স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে বৃহত্তর থানাগুলো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গফরগাঁও থানাকে বিভক্ত করে নতুন থানা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় প্রশাসনের জরিপে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের প্রাণকেন্দ্র কান্দিপাড়া এলাকাকে নতুন থানার জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয় এবং ১৯৭৯ সালে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস কমিটির অনুমোদনও লাভ করে। শহীদ জিয়ার শাহাদাতের পর এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত না হলেও ১৯৯১ সালে বিষয়টি পুনরায় উত্থাপিত হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর নিকারে নতুন উপজেলা অনুমোদনের মাধ্যমে সেই উদ্যোগ বাস্তব রূপ পেতে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ ইসাহাক, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আনসার উদ্দিন, যুবদলের আহ্বায়ক সরদার মো. খুররম এবং সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী শামীমা সুলতানা। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, পাগলা অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল একটি স্বতন্ত্র উপজেলা। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেই দাবি বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু উপজেলা নয়, এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ময়মনসিংহের সঙ্গে ফোর লেন সড়ক, একাধিক ডাবল লেন সড়ক, দুই উপজেলায় দুইটি আধুনিক ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, ১টি ডায়াবেটিক হাসপাতাল, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, কালচারাল সেন্টার, শিল্পকলা একাডেমি, সার্ভেয়ার ইন্সটিটিউট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ গফরগাঁও অঞ্চলের যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

অনুষ্ঠান শেষে নতুন উপজেলা অনুমোদনের আনন্দে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কান্দিপাড়া বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় রং বেরংয়ে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীরা নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন