চট্টগ্রাম বিভাগে টানা ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ছয় দিনে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ। এছাড়া টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৪২ কিলোমিটার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিভাগীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম জেলায় ১১ জন, কক্সবাজার জেলায় ২৩ জন (এর মধ্যে রোহিঙ্গা ১৩ জন), রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় ৩ জন এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ৬ জনসহ মোট ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোট ৩৯ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ১২ জন, কক্সবাজার জেলায় ২৪ জন (রোহিঙ্গা ৫ জন), খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ১ জন এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ২ জন আহত হয়েছেন।
প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম জেলায় ৬ লাখ ৬২ হাজার জন, কক্সবাজার জেলায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, রাঙামাটি জেলায় ৩ হাজার ৮২০ জন, খাগড়াছড়ি জেলায় ৩৪ হাজার ৪১৭ জন এবং বান্দরবান জেলায় ৮ হাজার ৩৫০ জনসহ মোট ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
১ হাজার ৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা
বন্যা মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলায় ৬৭০টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙামাটিতে ৪৭টি, খাগড়াছড়িতে ১৫০টি এবং বান্দরবানে ২২০টিসহ মোট ১ হাজার ৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ২২ হাজার ৬০০ জন, কক্সবাজারে ২ হাজার ৯৭৪ জন, রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৮২০ জন, খাগড়াছড়িতে ২ হাজার ৯১৬ জন এবং বান্দরবানে ৪ হাজার ৭৪৫ জনসহ মোট ৩৭ হাজার ৫৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলায় ৫৪০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ৩০ হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১৭ হাজার ২৫০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কক্সবাজার জেলায় ১৮১ মেট্রিক টন চাল, ১৭ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা, ৩৩০ প্যাকেট শুকনা খাবার; রাঙামাটি জেলায় ২৩৫ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ টাকা; খাগড়াছড়িতে ৬৭ দশমিক ৬ মেট্রিক টন চাল, ৮ লাখ টাকা, ৪৮৭ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ২০ হাজার খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।
বান্দরবান জেলার সাত উপজেলার জন্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ২ হাজার ৯৫৩ প্যাকেট শুকনা খাবার, ২৩৫ প্যাকেট শিশু খাদ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন এনজিওর সহযোগিতায় বান্দরবান জেলায় আরও ১ হাজার ৮৪৫ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৮ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে পাঁচ জেলা
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১২ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। রাইমস ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে এসব জেলাকে পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এদিকে রাঙামাটির সাজেকে আটকে পড়া ৪৬১ পর্যটককে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।
কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬ । ৯:২৫ অপরাহ্ণ