যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নৌ অবরোধের জেরে এবার বাব-এল-মান্দেব প্রণালী বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ব্যবহৃত জ্বালানি রপ্তানির অন্যান্য করিডরও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাহিনীটি।
ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, আইআরজিসির এ হুঁশিয়ারির আগে ইরান নতুন করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে।
বুধবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির সুবিধা হয় সবাই পাবে, না হয় কেউই পাবে না।’
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান মূলত ইয়েমেনের মিত্র হুতি গোষ্ঠীর মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব–এল–মান্দেব প্রণালী বন্ধ করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
এমনটি হলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহন পথই ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সংকীর্ণ এই প্রণালী লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়েই সম্পন্ন হয়।
ইরানের প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, গত সোমবার হুতিদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে তারা বাব-এল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত। তার দাবি, এমনটি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে সোমবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ এনে দেশটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা। এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।
হুতিরা এর আগেও বাব-এল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত করার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর ইরান-সমর্থিত এ গোষ্ঠী লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলা চালায়।
তাদের দাবি ছিল, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করতে নতুন দফায় সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে বলে মার্কিন বাহিনীর ঘোষণার এক দিন পরই আইআরজিসি নতুন এই হুঁশিয়ারি দিল।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত এক সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির আশপাশ এবং ইরানের উপকূলীয় এলাকায় কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, টানা সাত ঘণ্টা ধরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আইআরজিসি বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অশুভ তৎপরতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন এই প্রণালী দিয়েই আনা-নেওয়া হতো।
এ ছাড়া আইআরজিসির দাবি, হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬ । ৫:০১ অপরাহ্ণ