গাজাগামী মানবিক সাহায্যবাহী নৌবহর (ফ্লোটিলা)-এর এক জার্মান মানবাধিকারকর্মী ইসরায়েলি হেফাজতে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী অ্যানা লিডকে জানান, বন্দি অবস্থায় একাধিকবার জোরপূর্বক স্ট্রিপ-সার্চের সময় নারী কারারক্ষীরা তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন চালান। এ ঘটনায় তিনি ইসরায়েলে আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
লিডকের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌযানটি আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে আটকের পর তাঁকে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পাঁচ দিন আটক থাকার সময় নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেন, নির্যাতনের সময় তাঁর চিৎকার থামাতে মুখ চেপে ধরা হয় এবং কাছাকাছি অবস্থান করা পুরুষ রক্ষীদের হাসির শব্দও তিনি শুনতে পান।
অ্যানা লিডকে বলেন, এসব নির্যাতনের উদ্দেশ্য ছিল ফ্লোটিলার কর্মীদের ভয় দেখানো এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা থেকে বিরত রাখা। তবে তিনি জানান, ঘটনার পরপরই চিকিৎসক ও বন্ধুদের বিষয়টি জানান এবং পরে প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলেন।
ইসরায়েলে লিডকের আইনজীবীরা অ্যাটর্নি জেনারেল, কারা কর্তৃপক্ষের আইনি উপদেষ্টা, তদন্ত বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কারাগারের কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।
লিডকের আইনজীবী মুনা হাদ্দাদ বলেন, ইসরায়েলে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিদ্যমান। এই অভিযোগের মাধ্যমে সেই সংস্কৃতিকে চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে।
এদিকে, লিডকের পাশাপাশি আরও এক ডজনের বেশি ফ্লোটিলা কর্মী ইসরায়েলি হেফাজতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন, যদিও তাঁদের বেশির ভাগই নিরাপত্তার কারণে পরিচয় প্রকাশ করেননি।
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ ও কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে ইসরায়েলের বন্দিশালায় যৌন সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্স পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।
কালের আলো/এসএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬ । ১২:৩৫ অপরাহ্ণ