জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে বহু যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলা ও নৌ-অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবে তারা এই প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “জর্ডানের আল-আজরাক (মুয়াফফাক সালতি) বিমানঘাঁটিতে, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড অপারেটিং বেস— অত্যন্ত আধুনিক ও বিধ্বংসী ‘খাইবার-শেকন’ ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রচুর পরিমাণে ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী ড্রোনের মাধ্যমে হামলা এই নিখুঁত হামলা চালানো হয়।
এতে ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমান, বিমান রাখার বিশাল হ্যাঙ্গার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রধান কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে গেছে।”
ইরানের সেনাবাহিনী এটিকে তাদের চলমান ‘সায়েকেহ’ অভিযানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী ইরানের এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা বেশ কয়েকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত বা ভূপাতিত করেছে। কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের খবর তারা নিশ্চিত করেনি।
এছাড়াও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই নির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাতভর ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসের কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় বিদ্যুৎ স্থাপনা ও রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৯ জন।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, রাতভর ইরানের আহভাজ, কেশম, বুশেহের, দাশতি, বোস্তান, সিরিক, বন্দর-ই লেঙ্গেহ, বন্দর-ই খামির, বন্দর আব্বাস শহর এবং হরমুজগান প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় বড় আকারে বিমান অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনীর হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ৩টি সেতু, একটি ট্রেন স্টেশন এবং একটি বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়াও মার্কিন যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোঁড়া বোমায় ইরানের উপকূলীয় রাডার নজরদারি কেন্দ্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক লজিস্টিক সরবরাহ লাইন এবং হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা লক্ষ্য করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই অভিযান চালানো হচ্ছে. তিনি এর আগে সতর্ক করেছিলেন যে, ইরান আলোচনায় না ফিরলে তাদের অর্থনৈতিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখা হবে।
প্রসঙ্গত, ইরান আলোচনায় না ফিরলে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আলোচনা ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই দাবি করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিধিদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তারা চুক্তি করতে চায়; কারণ তারা ভালোভাবেই বুঝতে পারছে যে চুক্তিস্বাক্ষর না করলে তাদের কেউই আর অবশিষ্ট থাকবে না।’
সূত্র: আলজাজিরা
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬ । ৫:১০ অপরাহ্ণ