সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটসহ ৪৩ জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৫ লাখের বেশি কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং ১ লাখ ১৪ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে আউশ ধান, আমনের বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি, আদা, হলুদ, পেঁপেসহ অন্যান্য ফসল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) জানিয়েছে এই তথ্য।
ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে ৭৯ হাজার ৫০০ হেক্টর আউশ ধানের জমি, ১০ হাজার ৫০৪ হেক্টর আমনের বীজতলা ও ১৭ হাজার ৮০০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির জমি রয়েছে। সার্বিকভাবে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।।কৃষকরা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে অনেক সবজিগাছ পচে গেছে। অন্যদিকে, নতুন রোপণ করা চারাগুলোও টিকতে পারেনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফিল্ড সার্ভিস উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছে। তিনি বলেন, ‘ফসলের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ, সম্ভাব্য ক্ষতির হিসাব এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করাই এখন অগ্রাধিকার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আমন ধান, আগাম শীতকালীন সবজির বীজ ও প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ। প্রতিকূল আবহাওয়ার পর কৃষক যেন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে এবং কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এসব করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসন কৃষিখাতের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষ হলে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘কৃষকের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং দ্রুত কৃষিকাজ শুরু করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবে।’ এর আগে গত ১১ জুলাই এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী বলেছিলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসন সহায়তা দিতে সরকার তালিকা প্রস্তুত করছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূলত নির্ভর করবে বন্যা কতদিন স্থায়ী হয়, বৃষ্টির তীব্রতা কেমন থাকে এবং কত দ্রুত পানি নেমে যায়—এসব বিষয়ের ওপর। দ্রুত পানি নেমে গেলে ফসলের সামগ্রিক ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে এবং পানিতে তলিয়ে যাওয়া কিছু ফসল আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে। তবে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, বিশেষ করে আউশ ধান, আমনের বীজতলা, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের। দেশের মোট আবাদি জমির তুলনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ খুব বেশি না হলেও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব ব্যাপক। এর প্রভাব শুধু ফসলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু, মৎস্য খাত ও পশুখাদ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
কালের আলো/এম/এএইচ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬ । ৫:৫৮ অপরাহ্ণ