সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর গুলশানের দুটি ‘বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে’ থাকা সম্পদের তালিকা (ইনভেন্টরি) প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধ সম্পদের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কর্মকর্তারা ওই দুটি ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন এবং সেখানে থাকা মালামালের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেন।
তিনি বলেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের টিম ফ্ল্যাট দুটির সম্পদের তালিকা প্রস্তুত করছে।”
দুদক সূত্র জানায়, গত ২ জুলাই দেওয়া এক চিঠিতে আদালতের আদেশ অনুযায়ী ওই দুটি অ্যাপার্টমেন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। আদালত দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে এসব সম্পত্তির রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেন। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে সম্পদের তালিকা তৈরির অনুমতিও দেওয়া হয়।
এ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
দুদক জানায়, গুলশানের ওই দুটি অ্যাপার্টমেন্টের আয়তন যথাক্রমে ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট ও ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট।
২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিপুল পরিমাণ বিদেশি সম্পদের অভিযোগ সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুদক এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে এবং দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করে।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
কালের আলো/এসএ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ । ৪:৪২ অপরাহ্ণ