বিশ্বকাপ ফাইনালে হাফ-টাইম শো, রেকর্ড ২৮ মিনিটের বিরতি ঘিরে তীব্র বিতর্ক

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬ । ৩:২৯ পূর্বাহ্ণ

ফুটবল ইতিহাসের চিরাচরিত নিয়ম ভেঙে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ববাসী। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার মেগা ফাইনালে প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয় অর্ধার্ধের মধ্যবর্তী বিরতি (হাফ-টাইম) স্থায়ী হয়েছিল প্রায় ২৮ মিনিট।

বিশ্বকাপের ফাইনালে এবারই প্রথম বিশ্বখ্যাত তারকাদের নিয়ে এত বড় পরিসরে মিউজিক্যাল শো-র আয়োজন করা হয়। আর এই কনসার্টের মঞ্চ তৈরি এবং তা মাঠ থেকে সরানোর লজিস্টিকস ঝামেলার কারণেই বিরতির সময় স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

ফুটবলের নিয়ম নির্ধারণী সংস্থা ‘ইফাব’-এর ৭ নম্বর আইন অনুযায়ী, ম্যাচের হাফ-টাইম বিরতি কোনোভাবেই ১৫ মিনিটের বেশি হতে পারবে না। বিশ্বকাপের নিজস্ব নীতিমালায়ও ১৫ মিনিটের কথাই উল্লেখ ছিল।

কিন্তু ফিফা বিশেষ ক্ষমতা বলে এই মেগা ইভেন্টের জাঁকজমক বাড়াতে নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটানোর অনুমতি দেয়।

কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের ক্রিস মার্টিনের কিউরেশনে ১১ মিনিটের এই জমকালো আয়োজনে পারফর্ম করেন ম্যাডোনা, শাকিরা, জাস্টিন বিবার, বিটিএস এবং বার্না বয়-এর মতো বিশ্বসেরা তারকারা।

তবে পারফরম্যান্স ১১ মিনিট স্থায়ী হলেও, মাঠের ভেতর বিশাল মঞ্চ ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত

সরঞ্জাম আনা এবং তা সরিয়ে মাঠকে পুনরায় খেলার উপযুক্ত করতে বাকি সময়টুকু ব্যয় হয়। ফলে রেফারি প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজানো থেকে শুরু করে দ্বিতীয় অর্ধেকের খেলা শুরুর কিক-অফ পর্যন্ত ঘড়ির কাঁটায় মোট ২৭ মিনিট ও কিছু সেকেন্ড (প্রায় ২৮ মিনিট) পার হয়ে যায়।

ফুটবলের সনাতন কাঠামোর বাইরে গিয়ে ফিফার এই বাণিজ্যিক ও বিনোদনধর্মী উদ্যোগ একেবারেই ভালোভাবে নেননি ফুটবল সংশ্লিষ্টরা। ফুটবলার, ধারাভাষ্যকার, বিশ্লেষক ও সম্প্রচারকারী টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এই দীর্ঘ বিরতির তীব্র সমালোচনা করেছে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনোদনকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে মাঠের খেলার মূল স্পিরিট ও ফুটবলারদের মনোযোগ নষ্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রচারকারী চ্যানেলগুলোও বিরতির নির্দিষ্ট সময় নিয়ে ফিফার আগে থেকে স্পষ্ট কোনো ধারণা না দেওয়ার নীতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘‘এত দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকলে খেলোয়াড়দের শরীরের তাপমাত্রা ও হার্ট রেট কমে যায়, যা পেশির কার্যকারিতা শিথিল করে দেয়। এর ফলে দ্বিতীয় ভাগের শুরুতে সতীর্থরা দ্রুত দৌড়ানো, গতি বাড়ানো বা দিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শতভাগ দিতে পারে না এবং এতে পেশিতে চোট বা ইনজুরির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।’’

কেউ কেউ বলছেন, ‘‘এমন পরিস্থিতিতে কৌশল বদলে খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে পুরোপুরি বিশ্রামে না রেখে অ্যাক্টিভ রাখতে হবে। ওয়ার্ম-আপ, হাইড্রেশন এবং বডি টেম্পারেচার ধরে রাখার প্রোটোকল মেনে চলা বাধ্যতামূলক, যাতে মাঠে ফিরেই তারা আবার ম্যাচের ছন্দ ফিরে পায়।’’

উল্লেখ্য, ফিফা মূলত ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমবার এই পরীক্ষা চালিয়েছিল, যেখানে বিরতি ছিল ২৫ মিনিটের। এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চকে আমেরিকার ‘সুপার বোল’-এর আদলে রূপ দিতে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা বল মাঠের বাইরে রাখল ফিফা, যা বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ রীতিনীতি নিয়ে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিল।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন