সাম্প্রতিক বন্যায় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় জেলার অন্তত ১৫ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ কোটি টাকার বেশি।
কৃষি, সড়ক ও জনপথ (সওজ), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দেওয়া ক্ষয়ক্ষতির হিসাবের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ২৭৫টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৭৬৫টি বসতবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ১৪ হাজার ১৭৪ জনকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি খাতে। প্রাথমিক হিসাবে ৩৩০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক হাজার ৩১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে কৃষি খাতে প্রায় ১১ কোটি ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে সাত হাজার কৃষক।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩৩৩ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি আউশ-আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার ৭১০ টন ফসল নষ্ট হয়েছে।
এ ছাড়া মৎস্য খাতে ৪৫০টি পুকুর ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই কোটি ২৫১ লাখ টাকা। প্রাণিসম্পদ খাতে তিন হাজার ১৩টি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় সাত লাখ ৬৩ হাজার টাকা।
সম্প্রতি খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত। সভায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বন্যায় অবকাঠামো খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) ১১ দশমিক ৭২৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়কের স্বল্পমেয়াদি মেরামতে ৫০০ লাখ টাকা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে দুই হাজার ৪৫০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে।
খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার জানান, বন্যায় নয়টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের পাশের রিটার্নিং ওয়ালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিন্দুকছড়ি-মহালছড়ি ও বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
এলজিইডির আওতাধীন ২৬টি সড়কের ২১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার, পাঁচটি সেতুর ৩০৫ মিটার এবং চারটি কালভার্টের ১৮ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ২৮ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। এছাড়া ৯৯ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল রহমান জানান, কয়েকটি সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুবাছড়ি-মহালছড়ি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পানি কমলে সেখানে ডাইভারশন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত মেরামত ও সংস্কারে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
কালের আলো/এসএ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬ । ৫:০৮ অপরাহ্ণ