রাজশাহীতে টানা আড়াইঘন্টার বৃষ্টিতে হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে রাজশাহী নগরী। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর তিনটা থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। চলে টানা আড়াই ঘণ্টা। ধরণী ভিজিয়ে নগরবাসীর মনে যে স্বস্তি নামার কথা ছিল, তা বিড়ম্বনায় রূপ নেয়।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৬টা পর্যন্ত রাজশাহীতে ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর এই এক বৃষ্টিতেই যেন ছন্দপতন ঘটেছে পুরো নগরজীবনের।
বৃষ্টির মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমতে শুরু করে। রাজশাহী নগরীর জিরোপয়েন্ট থেকে শুরু করে সিঅ্যান্ডবি মোড়, রেলগেট, উপশহর, ভদ্রা, বর্ণালী, লক্ষ্মীপুর, ভাটাপাড়া, রাজপাড়া, পাঠানপাড়া, টিকাপাড়া ও বহরমপুর, শালবাগান, আহম্মদনগর ও নওদপাড়ার মতো ব্যস্ততম এলাকাগুলোর সড়ক থৈ থৈ পানিতে তলিয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক আর ফুটপাত একাকার হয়ে গেছে। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত দুর্গন্ধযুক্ত পানি উঠে এসেছে মূল রাস্তায়। কোথাও কোথাও পানি জমে হাঁটু ছুঁয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক স্থানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বন্ধ হয়ে যেতে দেখা যায়। নিরুপায় হয়ে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষকে পরনের কাপড় গুটিয়ে হাঁটুসমান ময়লা পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে ছুটতে দেখা গেছে।
নগরীর সাহেববাজার এলাকায় রিকশা নিয়ে যাচ্ছিলেন রিকশাচালক কাসেম আলী। জমে থাকা পানির দিকে তাকিয়ে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, গরমে কয়েকদিন খাটাখাটনি করা যাচ্ছিল না, বৃষ্টি নামায় শরীরে একটু বাতাস লেগেছে সত্য। কিন্তু এই পানির মধ্যে রিকশা চালানো যে কী কষ্ট। রাস্তায় অত পানি, চাকা ডোবে, ভয় হয় কখন গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। যাত্রীও মেলে না। পেটের তাগিদে বের হয়ে এখন রাস্তায় আটকে আছি।
একই ভোগান্তির চিত্র লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকায়। রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী সাবরিনা সুলতানা ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টি হওয়াতে আবহাওয়াটা সত্যিই দারুণ লাগছে। কিন্তু ক্লাস শেষে বের হয়ে দেখি পুরো রাস্তা ডুবে গেছে। রিকশাওয়ালারা দ্বিগুণ ভাড়া চাচ্ছে। আবার পানি পার হয়ে হেঁটে হেঁটে যাওয়ারও উপায় নেই।
নগরীর বর্ণালী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মাহফুজুর ইসলাম ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে ড্রেন তৈরি আর সংস্কার করা হয়। অথচ মাত্র এক-দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে পুরো রাজশাহী শহর অচল হয়ে পড়ে। আমাদের বাড়িতেও পানি ঢুকে যায়। রাস্তার পানি না নামলে বাড়ির পানি নামে না। আমরা দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই সমাধান চাই।
জরুরি চিকিৎসার জন্য রাজশাহীর লক্ষীপুর এলাকায় একটি ডায়াগনিস্টক সেন্টারে এসেছিলেন তেরখাদিয়া এলাকার গৃহিণী পারভীন বেগম। তিনি বলেন, রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাব, কিন্তু রাস্তার যে অবস্থা তাতে রোগী আরও অসুস্থবোধ করছে। বাধ্য হয়ে বৃষ্টিতে ভিজে এই অবস্থায় যাওয়া লাগছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এদিন বিকেল ৬টা পর্যন্ত ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, প্রতিটি উপজেলায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের পাশে থাকার জন্য। জমিতে পানি জমলে তা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। সামনে কয়েকদিন বৃষ্টি হতে পারে সেভাবে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কালের আলো/এসআর/এএএন

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ । ৫:৪৪ অপরাহ্ণ