কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পর মঙ্গলবার রাজধানীবাসী কিছুটা স্বস্তি পেলেও বুধবার বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টিতে আবারও জনজীবনে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। দুপুরের পর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ওঠার পর সোয়া ৩টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। এতে অফিসফেরত মানুষ, পথচারী এবং খোলা আকাশের নিচে ব্যবসা পরিচালনাকারীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন।
পল্টন, শান্তিনগর, কাকরাইল, মগবাজার, মৌচাকসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় একই সময়ে বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গেছে। বৃষ্টির কারণে ব্যস্ত সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি কমে যায় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে অফিস ছুটির সময় ঘনিয়ে আসায় অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় রাস্তায় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
হঠাৎ বৃষ্টিতে প্রস্তুতি না থাকায় অনেক পথচারী ভিজে যান। কেউ কেউ দ্রুত আশপাশের মার্কেট, দোকান কিংবা ফুটপাতের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেন। অনেককে ছাতা ছাড়াই গন্তব্যের উদ্দেশে ছুটতে দেখা যায়। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বাতাস থাকায় রাস্তায় চলাচলও কিছুটা কষ্টকর হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন ভাসমান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ফুটপাতের দোকান, অস্থায়ী স্টল এবং খোলা জায়গায় ব্যবসা পরিচালনাকারীদের অনেকেই তড়িঘড়ি করে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ পলিথিন বা ত্রিপল দিয়ে মালামাল ঢেকে রাখেন। তবে আকস্মিক বৃষ্টির কারণে অনেকের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
সামিউল ইসলাম বলছেন, কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির পর আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় তারা স্বস্তি অনুভব করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে আবারও নগরজীবনের স্বাভাবিক ছন্দে বিঘ্ন ঘটেছে। বিশেষ করে যাদের প্রতিদিন গণপরিবহন ব্যবহার করতে হয়, তাদের জন্য এমন পরিস্থিতি বাড়তি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া থেকে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন অনেকেই। যদিও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট যানজট এবং চলাচলে বিঘ্নের কারণে দিনের শেষভাগে নগরবাসীকে ভোগান্তির মধ্য দিয়েই সময় কাটাতে হয়েছে।
আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হলে ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে আকস্মিক বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬ । ৪:৩৪ অপরাহ্ণ