বাসাবাড়িতে বদলে গেছে রান্নার সময়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬ । ১১:০০ পূর্বাহ্ণ

সাধারণ মানুষের জীবনে গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে রান্নাঘরে। তিতাসের আওতাধীন এলাকায় দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও গত কয়েক দিনে সরবরাহ নেমে এসেছে ১৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে। অর্থাৎ, শুধু তিতাসের আওতাধীন এলাকাতেই দৈনিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে ৫০ কোটি ঘনফুটের বেশি। ফলে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমেছে।

ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, আদাবরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের বড় সময় চুলা জ্বলছে না। অনেক পরিবারকে ভোরে রান্না শেষ করতে হচ্ছে। কেউ ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। কেউ বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনছেন।

ধানমন্ডি মধুবাজারের বাসিন্দা নাজমুন নাহার বলেন, ‘দুপুরে কিছু সময়ের জন্য থাকলেও মূলত গত কয়েক মাস ধরে সকাল ৮টার পর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। গত দুই দিন গ্যাস আসছে রাত ১১টায়। তাও কোনো চাপ নাই। রান্না করা যায় না। তাই ভোর রাতে উঠে রান্না করতে হচ্ছে।’

তিতাসের পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। এর কারণে শুধু ঢাকা নয়, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জেও স্বল্পচাপের সমস্যা তৈরি হয়েছে।’ তিতাসের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণেও কোনো কোনো এলাকায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

গ্যাসের চাপ কম থাকলে পাইপলাইনের বাইরের পানি বিভিন্ন ছিদ্র দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে। ফলে কোনো কোনো এলাকায় পানি সরানো না পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয় না। দেশে পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহক বা চুলার সংখ্যা প্রায় ৪৩ লাখ। এর মধ্যে শুধু তিতাস গ্যাসেরই গ্রাহক প্রায় ২৮ লাখ।

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার পর পেট্রোবাংলা ছয়টি বিতরণ কোম্পানির জন্য সরবরাহ বরাদ্দও কমিয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের মধ্যে তিতাস গ্যাস কোম্পানিকে ১২৮ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট, বাখরাবাদকে ১৯ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট, জালালাবাদকে ৩১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট, পশ্চিমাঞ্চলকে ১১ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট, কর্ণফুলীকে ২১ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট এবং সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানিকে ৭ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট গ্যাস বিতরণ করতে বলা হয়েছে।

এই সরবরাহের মধ্যে বিদ্যুত খাতে বরাদ্দ ৭৪ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট, সার খাতে ১৭ কোটি ঘনফুট, শিল্প ও ক্যাপটিভ পাওয়ারে ৯৫ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট এবং অন্যান্য খাতে ৩২ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন