রাজধানীতে ৬ মাসে ১২২ হত্যাকাণ্ড

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬ । ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত রাজধানীতে ১২২টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গড়ে মাসে খুন হচ্ছে ২০ জন। সবচেয়ে বেশি হয়েছে মার্চ ও জুন মাসে। জুলাই মাসের হালনাগাদ তথ্য জানাতে পারেনি ডিএমপি। এরপরও ডিএমপির দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

গত বছর প্রথম ছয় মাসে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিলো এর থেকেও বেশি ২১৭টি। তবে তার আগের দুই বছরে এই হার ছিলো কম। ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে হত্যাকাণ্ড ছিলো ৮৬টি এবং ২০২৩ সালের প্রথম ছয় মাসে হত্যাকাণ্ড ঘটে ৯৮টি। তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ২১টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৭টি, মার্চে ২৪টি, এপ্রিলে ১৭টি, মে মাসে ১৮টি ও জুনে ২৫টি হত্যাকাণ্ড হয়। এরমধ্যে পারিবারিক কলহে খুন হয়েছেন ৩০ জন এবং রাজনৈতিক কারণে খুনের সংখ্যা ৯।

জানুয়ারিতে পূর্বশত্রুতার জেরে ৫ জন, রাজনৈতিক কারণে ৫ জন, পারিবারিক কলহে ৩ জন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে ২ জন, চুরির ঘটনায় ১ জন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ২ জন এবং অন্যান্য কারণে আরও ৩ জন নিহত হন। ফেব্রুয়ারিতে পূর্ব শত্রুতার জেরে ৪ জন, পারিবারিক কলহে ৩ জন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে ২ জন, রাজনৈতিক কারণে ১ জন, চুরির ঘটনায় ১ জন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ১ জন, ধর্ষণের কারণে ১ জন ও অন্যান্য ঘটনায় ৪ জন নিহত হন।

মার্চ মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে ৬ জন, পারিবারিক কলহে ৩ জন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ২ জন, চুরির ঘটনায় ১ জন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১ জন, যৌতুকের কারণে ১ জন, কথাকাটাকাটির জেরে ১ জন, ধর্ষণের কারণে ১ জন, আত্মহত্যার ঘটনায় ১ জন এবং অন্যান্য ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। এপ্রিলে পূর্বশত্রুতার কারণে ৬ জন, পারিবারিক কলহে ৩ জন, রাজনৈতিক কারণে ২ জন এবং অন্যান্য ঘটনায় ৪ জন নিহত হন। এপ্রিলে পৃথক ঘটনায় ২ শিশুও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।

মে মাসে পারিবারিক কলহে ৫ জন, পূর্বশত্রুতার জেরে ২ জন, পরকীয়ার কারণে ১ জন, ধর্ষণের কারণে ১ জন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ১ জন এবং অন্যান্য কারণে ৪ জন নিহত হন। জুনে পূর্বশত্রুতার জেরে ৭ জন, পারিবারিক কলহে ৬ জন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ৩ জন, রাজনৈতিক কারণে ১ জন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১ জন, মলম পার্টির কারণে ১ জন, গণপিটুনিতে ১ জন, যৌতুকের কারণে ১ জন এবং অন্যান্য কারণে ৫ জন নিহত হন।

তবে সার্বিক পরিস্থিতিকে ‘স্থিতিশীল’ বলছে পুলিশ। ডিএমপির এডিসি (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী বলেন, ‘মার্ডারের কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, পূর্বশত্রুতার জেরেই সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড হয়েছে। আমার কাছে যে পরিসংখ্যান আছে, সেখানে রাজনৈতিক কারণে খুনের ঘটনা স্থিতিশীল আছে। আসামি গ্রেফতার ও সুষ্ঠ্যু তদন্ত করতে পুলিশ তার সাধ্যমতো চেষ্টা করছে।’

অপরাধ বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুলিশ সাধারণত মামলার হিসাব দিয়ে পরিসংখ্যান তৈরি করে। এই পরিসংখ্যান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। পুলিশ মামলা নিতে অনীহা দেখালে পরিসংখ্যানেও অপরাধের সংখ্যা কম দেখায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, ‘শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। খুন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো ব্যাপকভাবে সামনে আসছে। মানুষের মধ্যে ভয় ও শঙ্কা বেড়েছে।’

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন