২৪ ঘণ্টায় ৬০ হাজার অভিবাসী: পাল্টে দিচ্ছে ইউরোপের অভিবাসন নীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ । ১০:৩১ অপরাহ্ণ

মরক্কো সীমান্তঘেঁষা স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউতায় মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী পৌঁছেছেন। যা এই অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান।

জার্মান গণমাধ্যম টাগেসচাও জানিয়েছে, উদ্ভত পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুক্রবার ( ৩১ জুলাই) সিউতায় গিয়েছেন।

তিনি সেখানে গিয়ে বলেছেন, অবৈধ অভিবাসীদের এই বিশাল স্রোত আমাদের দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলা।

সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সীমান্তে ভাসমান প্রতিবন্ধক বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

এদিকে ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তারা সরাসরি স্পেনকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ডানপন্থি দলগুলোও অভিবাসন বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল করছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনুস ব্রুনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফ্রন্টেক্সসহ বিভিন্ন উপায়ে স্পেনকে সহযোগিতা করা হবে। স্পেন সহযোগিতা চাইলেই আমরা করবো। আমরা প্রস্তুত আছি।

এছাড়া সিউতার আঞ্চলিক প্রধান হেসুস ভিভাস একাধিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এত অল্প সময়ে ৬০ হাজার মানুষের প্রবেশ সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। এই সংখ্যা অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান। তিনি সিউতার পরিস্থিতিকে সামাজিক জরুরি অবস্থা বলে উল্লেখ করেন।

ইউরোপের একমাত্র দেশ স্পেন বর্তমানে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ দিচ্ছে। এতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এই গুজবে মরক্কো দিয়ে হাজারো মানুষ সিউতার দিকে ছুটে আসেন।

অধিকাংশ অভিবাসী সাঁতরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে সেখানে পৌঁছেছেন। অনেকে আবার সীমান্তের উঁচু দেয়াল টপকে প্রবেশ করেন। তবে ঠিক কী কারণে এই নজিরবিহীন ঢল শুরু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিউতা সফরকালে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, পুরো স্পেন সিউতার পাশে রয়েছে। এই পরিস্থিতির দায়িত্ব আমরা নিচ্ছি। সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও জোরদার করা হবে।

জানা গেছে, সিউতায় পৌঁছাতে মরক্কোর উপকূল থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত সাঁতার কাটতে হয়। এই বিপজ্জনক যাত্রায় অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিউতার আঞ্চলিক প্রধান। অনেক অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা না পেয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিয়েও সংকট দেখা দিয়েছে।

অভিবাসী স্রোত নিয়ে মরক্কো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও মাদ্রিদে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত কারিমা বেনইয়াইচা বলেছেন, এই পরিস্থিতি মরক্কোর স্বার্থের পরিপন্থি। সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফিরে আসা উচিত।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন