স্বেচ্ছায় ৭ বার রক্তদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ । ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

মানবিক কাজে মানুষের পাশে থাকেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। এ পর্যন্ত স্বেচ্ছায় ৭ বার রক্তদান করেছেন তিনি।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (আইইবি) বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির (বিটিএস) ‘রক্তদাতা সম্মাননা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় রক্তদানে অনুপ্রেরণা দিতে গিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ও জাইমা রহমানের মা ডা. জুবাইদা রহমান। স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের অবদানকে স্বীকৃতি ও কৃতজ্ঞতা জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘এখনও অনেকে জানেন না থ্যালাসিমিয়া একটি প্রতিরোধযোগ্য ব্যাধি এবং এর চিকিৎসা সম্পর্কেও তাদের পর্যাপ্ত ধারণা নেই। থ্যালাসিমিয়া যোদ্ধাদের শতভাগ সুস্থ করা সম্ভব না হলেও সান্ত্বনা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে পারেন। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীরা একা নয়, তাদের পাশে সমাজ ও দেশের মানুষ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশজুড়ে থ্যালাসিমিয়া এবং জন্মগত ও বিরল রোগে আক্রান্ত মানুষদের একটি সঠিক ডেটাবেস প্রস্তুত করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে একটি রেজিস্টার মেইনটেইনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত।’

থ্যালাসিমিয়া শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার উপায় নিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘অন্তঃসত্ত্বাকালীন সময়ে কিংবা যেকোনো বয়সে সাধারণ স্ক্রিনিং টেস্টের মাধ্যমে থ্যালাসিমিয়া শনাক্ত করা সম্ভব। শনাক্তকরণের পর রোগীদের প্রয়োজন সুষ্ঠু চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যের সহায়তা, পর্যাপ্ত ব্যায়াম ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস।’

তৃণমূল পর্যায়ে এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, দেশবাসীকে থ্যালাসিমিয়া সম্পর্কে সচেতন করা এবং শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চালানো যেতে পারে দেশের বিভিন্ন সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে। এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামেও রোগের উপসর্গ শনাক্ত করা সম্ভব।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘এক লক্ষ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সময় তাদেরকে থ্যালাসিমিয়ার উপসর্গ, চিকিৎসা এবং রোগীকে আশ্বস্ত করার পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা যেতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশের গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বহু নতুন ও পুরোনো রোগী শনাক্ত করা সহজ হবে।’

তরুণরা মানবিক হওয়ায় অনুপ্রেরণা দিতে গিয়ে বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানান ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় তিনি নিজ কন্যা জায়মা রহমানের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি আজ অভিনন্দন জানাই আমার কন্যা জায়মা রহমানকেও। যিনি একজন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা এবং তিনি এ পর্যন্ত সাতবার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।

সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ ও বিটিএসের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন