ফিফার বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা বাতিলের পর নতুন করে চাপে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিতর্কিত এ প্রস্তাবের কারণে ফুটবলের বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি, যা তাঁর সম্ভাব্য চতুর্থ মেয়াদের পথেও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ফিফা সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা আর এগিয়ে নেওয়া হবে না। প্রস্তাবটি প্রকাশের পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই উয়েফাসহ বিভিন্ন কনফেডারেশন এর বিরোধিতা করে। তাদের অভিযোগ, সদস্যদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
২০১৬ সালে সেপ ব্লাটারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ইনফান্তিনো। তবে সময়ের সঙ্গে তাঁর বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত বিতর্কের জন্ম দেয়। এর মধ্যে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে সৌদি আরবকে নির্বাচনের প্রক্রিয়া, ক্লাব বিশ্বকাপের সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সাম্প্রতিক বিতর্কের পর উয়েফা এক বিবৃতিতে ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই পরিকল্পনার পেছনে কারা ছিলেন, তা তদন্তের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইনফান্তিনোর অবস্থান এখনই দুর্বল হয়ে পড়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তাঁকে অপসারণের জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্যদেশের সমর্থনে অনাস্থা প্রস্তাব এবং শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো প্রার্থী সামনে আসেননি।
আগামী ১৮ নভেম্বর ফিফা সভাপতির নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণার শেষ সময়। ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে ফিফা কংগ্রেসে। ফলে আগামী কয়েক মাসেই স্পষ্ট হবে ইনফান্তিনো চতুর্থ মেয়াদে নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারবেন কি না।
কালের আলো/এসএ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬ । ২:৪৪ অপরাহ্ণ