রাজধানীর সাত শীর্ষ সন্ত্রাসীর ৪১৮ ভাড়াটে খুনি ও শুটার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ । ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীতে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। সাত শীর্ষ সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণ করছে অপরাধ জগত। সম্প্রতি ঢাকায় সংঘটিত পাঁচটি ‘হাইপ্রোফাইল’ হত্যাকাণ্ড পর্যালোচনা ও তদন্তে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ততা এবং তাদের অনুসারী ভাড়াটে খুনি ও পেশাদার শুটারদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ভাড়াটে খুনি ও শুটারদের সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ৪১৮ জনে। ডিএমপির একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মতিঝিলে রয়েছেন এই তালিকার ১১৪ জন। এছাড়া ওয়ারীতে ৭৬ জন, তেজগাঁওয়ে ৬৫ জন, মিরপুরে ৬৪ জন, রমনায় ৩৬ জন, লালবাগে ২৪ জন, গুলশানে ২১ জন ও উত্তরায় ১৮ জন ভাড়াটে খুনি ও শুটার সক্রিয় রয়েছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুটার এবং ভাড়াটে খুনিদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছিল। ওই সময় ৪০১ জন শুটার ও ভাড়াটে খুনির নাম তালিকাভুক্ত হয়। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সামনে আসায় ফের তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া ও পলাতক অপরাধীদের মধ্যে আরও ১৭ জনের তথ্য যুক্ত করা হয়েছে এই তালিকায়।

জানা যায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান, ইমন, সুইডেন আসলাম, খোরশেদ আলম রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু, কিলার আব্বাস ও ইমামুল হাসান ওরফে পিচ্চি হেলাল ও সোহেল রানা চৌধুরী ওরফে ফ্রিডম সোহেলের অনুসারী তারা। এদের মধ্যে জিসান বসবাস করেন দুবাইয়ে। ইমন কখনো অবস্থান করেন মালয়েশিয়া, কখনো দুবাই বা থাইল্যান্ডে। কিলার আব্বাস মালয়েশিয়ায় আস্তানা গেড়েছেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও যাতায়াত আছে তার। ফ্রিডম রাসু ও ফ্রিডম সোহেল আছেন ভারতে। সুইডেন আসলাম ও পিচ্চি হেলাল এখনও দেশেই আছেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য আছে। সুইডেন আসলাম এরই মধ্যে মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ একাধিক দেশ ঘুরে এসেছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আগে ভাড়াটে খুনিদের একটি বড় অংশ রাজধানীর পরিচিত অপরাধীচক্র থেকেই আসত। কোন এলাকায় খুন হয়েছে বা গুলি হয়েছে—সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকার সোর্স কাজে লাগিয়ে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হতো; কিন্তু এখন অপরাধীদের পরিকল্পনা বদলেছে। মূল পরিকল্পনাকারীরা নিজেদের পরিচিত শুটার ব্যবহার না করে বিভিন্ন জেলা থেকে অস্ত্রধারীদের ভাড়া করছে। এতে স্থানীয় সোর্স নেটওয়ার্ক কিংবা গোয়েন্দা নজরদারিতে তাদের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করায় সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় করেও অনেক সময় সরাসরি হামলাকারীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, ‘জামিনে বের হয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কি করছে, কোথায় যাচ্ছে- তা জানতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। শুধু ঢাকার ভেতরে নয়, দেশের সব অপরাধীর একটি তালিকা করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন