স্বামীর মদ্যপানের আসক্তিতেই ভেঙেছে ২২ বছরের সংসার, জানালেন শুভাঙ্গী আত্রে

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ । ১:৪৫ অপরাহ্ণ

হিন্দি টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভাঙ্গী আত্রে, যিনি ‘ভাবিজি ঘর পার হ্যায়!’ ধারাবাহিকে ‘অঙ্গুরি ভাবি’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত, সাবেক স্বামী পীযূষ পুরের মদ্যপানের আসক্তির কারণে তাঁদের ২২ বছরের দাম্পত্য ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে আবারও মুখ খুলেছেন।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদ করেন শুভাঙ্গী ও পীযূষ। বিচ্ছেদের মাত্র দুই মাস পর লিভার সিরোসিসে মারা যান পীযূষ। অভিনেত্রীর দাবি, স্বামীর দীর্ঘদিনের অ্যালকোহল আসক্তিই তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শুভাঙ্গী জানান, বিয়ের শুরুর দিকে তিনি স্বামীর আসক্তির গভীরতা বুঝতে পারেননি। তাঁর ভাষায়, শুরুতে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পীযূষ এতটাই দক্ষতার সঙ্গে বিষয়টি লুকিয়ে রাখতেন যে অনেক সময় তিনি বুঝতেই পারতেন না স্বামী মদ্যপ অবস্থায় আছেন কি না।

তিনি বলেন, আসক্তির প্রভাব ধীরে ধীরে পীযূষের আচরণ ও স্বাস্থ্যে পড়তে শুরু করে। যদিও তিনি কখনো তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেননি, তবু ধীরে ধীরে সম্পর্কটি আর সুস্থভাবে এগোচ্ছে না—এমন উপলব্ধি হয় শুভাঙ্গীর।

অভিনেত্রীর মতে, একটি দাম্পত্য সম্পর্ক মানে একসঙ্গে মানসিক, আর্থিক, আধ্যাত্মিক ও ব্যক্তিগতভাবে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পীযূষ নিজের কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এবং মদ্যপানই তাঁর জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, এভাবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

শুভাঙ্গী আরও জানান, একপর্যায়ে পুরো পরিবারের আর্থিক দায়িত্বও তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। সংসার ভাঙার সিদ্ধান্ত নিতে তাঁদের প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল। কারণ তিনি চেয়েছিলেন, তাঁদের মেয়ে যেন মা-বাবার সঙ্গে একই ছাদের নিচে বড় হতে পারে।

বিবাহবিচ্ছেদের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, অভিনয়জীবনে সফল হওয়ার পরই তিনি স্বামীকে ছেড়ে গেছেন। তবে সেই অভিযোগ নাকচ করে শুভাঙ্গী বলেন, সংসার বাঁচানোর জন্য তিনি সব ধরনের চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি পীযূষকে পুনর্বাসন কেন্দ্রেও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো প্রচেষ্টাই তাঁদের সম্পর্ক রক্ষা করতে পারেনি।

শুভাঙ্গীর ভাষ্য, ২০১৮-১৯ সালের দিকে পীযূষের মদ্যপানের আসক্তি আরও বেড়ে যায় এবং সেখান থেকেই তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টা-সংগ্রামের পর ২০২৫ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে লিভার সিরোসিসে মারা যান পীযূষ।

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন