সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, জুলাই জাদুঘর নির্মাণের কাজ ছিল ‘আক্ষরিক অর্থেই একটি যুদ্ধের মতো’। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফারুকী লেখেন, “মন্ত্রণালয়ের শত শত কাজের মধ্যে জুলাই জাদুঘরের কাজ এক বছরের মধ্যে একটি কাঠামোতে নিয়ে আসা ছিল আক্ষরিক অর্থেই যুদ্ধ। এই যুদ্ধ আমার আয়ু কেড়েছে, কেড়েছে আরও অনেক কিছু। কিন্তু শত শত শহীদ যেখানে জীবন দিয়েছেন, সেখানে এসব যুদ্ধ আর এমন কী?”
তিনি জানান, বুধবার (৫ আগস্ট) জাদুঘরটির উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। শূন্য থেকে জাদুঘরটি গড়ে তোলার পেছনে যাদের নিরলস শ্রম রয়েছে, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষভাবে স্থপতি তানজিম ওয়াহাব, স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম, সংশ্লিষ্ট টিম এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
ফারুকী আরও জানান, শুরুতে আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হলেও এতে তিন বছরের বেশি সময় লাগতে পারে এবং ব্যয়ও অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হয়। পরে দেশীয় সক্ষমতার ওপর নির্ভর করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।
নিজের পোস্টে তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত যারা জাদুঘরটি পরিদর্শন করেছেন, তাদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়েছেন। পাশাপাশি ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টাইমস, ফরাসি দৈনিক লা মোঁদ এবং জার্মান দৈনিক টাজ জাদুঘরটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফারুকী বলেন, টিম লিডার ও আর্টিস্টিক ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় কঠোর হতে হয়েছে। এ কারণে কাজের সময় কাউকে বকাঝকা বা উচ্চস্বরে কথা বলে থাকলে তিনি সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই জাদুঘর সব সময়ই ‘ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস’ হিসেবে থাকবে। তার ভাষায়, জুলাই আন্দোলন এবং গত ১৬ বছরের ঘটনাপ্রবাহ এতটাই বিস্তৃত যে, একবারে সবকিছু তুলে ধরা সম্ভব নয়।
ফারুকী জানান, এখন পর্যন্ত গেজেটভুক্ত ৮৩৫ জন শহীদের প্রত্যেককে নিয়ে পৃথক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করতেই কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ভবিষ্যতে আরও তথ্য, দলিল ও উপাদান জাদুঘরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে জুলাই আন্দোলন বা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের গণ্ডি পেরিয়ে এই জাদুঘরকে বাংলাদেশের রাজনীতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পোস্টের শেষাংশে জুলাই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান ফারুকী। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬ । ৫:১০ অপরাহ্ণ