চাঁদে প্রথম পা রাখা মানুষ হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন মার্কিন মহাকাশচারী নীল আর্মস্ট্রং। ১৯৩০ সালের ৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ওয়াপাকোনেটায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
শৈশব থেকেই আকাশ ও উড়োজাহাজের প্রতি আগ্রহ ছিল আর্মস্ট্রংয়ের। পরবর্তীতে তিনি পাইলট, মহাকাশচারী ও অ্যারোস্পেস প্রকৌশলী হিসেবে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান।
১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই নাসার ঐতিহাসিক অ্যাপোলো-১১ অভিযানের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে প্রথম মানুষের পদচিহ্ন রাখেন নীল আর্মস্ট্রং। চাঁদের পৃষ্ঠে পা রাখার সময় তার বিখ্যাত উক্তি—“মানুষের জন্য এটি একটি ছোট পদক্ষেপ, মানবজাতির জন্য এক বিশাল লাফ”—আজও ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত।
মহাকাশ গবেষণায় অসামান্য অবদানের জন্য আর্মস্ট্রং পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম, কংগ্রেশনাল স্পেস মেডেল অব অনারসহ অসংখ্য পুরস্কার।
মহাকাশচারী হওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজের পাইলট হিসেবেও কাজ করেন। পরে তিনি শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটিতে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ব্যক্তিজীবনে নীল আর্মস্ট্রং দুইবার বিয়ে করেন। তার প্রথম স্ত্রী ছিলেন জ্যানেট শিয়ারন এবং দ্বিতীয় স্ত্রী ক্যারল হেল্ড নাইট। তার তিন সন্তান ছিল।
২০১২ সালের ২৫ আগস্ট ৮২ বছর বয়সে হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচারের জটিলতার কারণে মারা যান নীল আর্মস্ট্রং। তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় আটলান্টিক মহাসাগরে।
মহাকাশ অনুসন্ধানের ইতিহাসে নীল আর্মস্ট্রংয়ের নাম চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। চাঁদের বুকে তার সেই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ মানবজাতির বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রার এক অনন্য প্রতীক।
কালের আলো/এসএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬ । ৭:০৩ অপরাহ্ণ