মন্ত্রীদের বেতন ১০ লাখ, এমপিদের ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব নুরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬ । ৫:০০ অপরাহ্ণ

‘সংসদ সদস্যদের কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা করা উচিত’

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, সংসদ সদস্যদের (এমপি) কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা করা উচিত। একইসঙ্গে মন্ত্রীদের মাসিক বেতন কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা ও সংসদ সদস্যদের ৫ লাখ টাকা নির্ধারণেরও প্রস্তাব দেন তিনি।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

নুরুল হক নুর বলেন, যেসব জনপ্রতিনিধি জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকেন, তাদের নিয়মিত নির্বাচনী এলাকায় যেতে হয়।

কিন্তু অনেক এলাকায় সড়কের অবস্থা ভালো নয়। ছোট গাড়িতে চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।

আবার ব্যক্তিগতভাবে একটি প্রাডো বা এ ধরনের নিরাপদ গাড়ি কেনার সামর্থ্য অনেক সংসদ সদস্যের নেই।

তিনি বলেন, একজন এমপি যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন সরকারের পক্ষ থেকে একটি গাড়ি ব্যবহার করবেন।

মেয়াদ শেষে গাড়িটি পরিবহন পুলে ফেরত দেবেন। সচিবসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো এমপিদের জন্যও এ ধরনের সুবিধা থাকা উচিত।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে একজন সংসদ সদস্যের মৌলিক বেতন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা, সবমিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পান। একজন মন্ত্রীর মৌলিক বেতন প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ও প্রতিমন্ত্রীর ৯২ হাজার টাকা। কিন্তু এলাকায় গেলে চিকিৎসা সহায়তা, বিয়ে, খেলাধুলার পুরস্কারসহ নানা ধরনের আর্থিক সহায়তার দাবি আসে, যা এই আয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। এসব দিতে হলে মন্ত্রীদের মাসিক বেতন ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা এবং সংসদ সদস্যদের ৫ লাখ টাকা হওয়া উচিত। এতে আবার বেতন বাড়ানোর অভিযোগ উঠতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনায় জনপ্রতিনিধিদের যাদের ব্যক্তিগত বিপুল সম্পদ নেই, তাদের পক্ষে এসব সামাজিক প্রত্যাশা পূরণ করা কঠিন। এতে অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত উপায়ে অর্থ সংগ্রহের প্রলোভন তৈরি হতে পারে।

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে নুরুল হক নুর বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সম্মানজনক বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিও এসেছে। শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

তিনি বলেন, আমার নিজের অ্যাসেসমেন্ট থেকে আমি একটা বক্তব্যে ইন্টারিম গভর্নমেন্টের সময় বলেছিলাম যে, ন্যূনতম বেতন ২০ হাজার টাকা হওয়া উচিত। কেন? আমি দেখলাম যে ন্যূনতম ৮২০০ টাকা ছিল ওই সময়ে। আমরা বলেছি, ধরেন ঢাকার শহরে যারা কায়িক পরিশ্রম করে দিনমজুরের কাজ করে সেও এখন ৬০০-৭০০ টাকা পায়। ওই হিসাবে আমি বলেছিলাম যে ৬০০-৭০০ টাকা করে পাইলেও একটা লোক অ্যাভারেজ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ইনকাম হয়। তাহলে একজন সরকারি সে ছোট পোস্টেই চাকরি করুক কিন্তু মানুষ। গ্রামগঞ্জে বিভিন্ন জায়গায়, বাড়ি গেলে মানুষ মনে করে… এই সোসাইটির সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে যে সে সরকারি চাকরি করে। কাজেই তাকে একটু যদি সামাজিকভাবে চলার মতো একটা মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করার মতো বেতনটা না দেওয়া হয়, তাহলে তো অন্য কিছু করা ছাড়া উপায় নাই।

নুরুল হক নুর বলেন, আমরা এজন্য বলেছিলাম যে আমরা সুশাসন চাই, গণতন্ত্র চাই, আমি যেটা মনে করি সিঙ্গাপুরে লি কুয়ান ইউ করেছিলেন, তিনি যখন রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ইভেন মালয়েশিয়াতে মাহাথির মোহাম্মদও করেছিলেন, অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং জনপ্রতিনিধিদেরও। তারপর তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে গেছে।

আজ এ ধরনের… সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন স্কেল, যেটা আমি মনে করি এটা বর্তমান সরকার করবে। কারণ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ বছর নির্বাসিত থেকে রাষ্ট্রের বিষয়ে আমি মনে করি পুঙ্খানুপুঙ্খ একটা স্টাডি করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি তার বক্তব্যে দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রত্যাবর্তনের পর ৩০০ ফিটের মাঠে লাখ লাখ জনতার সামনে দাঁড়িয়ে যেভাবে বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’, সেটার অনেকগুলো বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পাচ্ছি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন