তারেক রহমানকেও আয়নাঘরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬ । ২:০৫ অপরাহ্ণ

ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সদর দফতরে থাকা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারের (জেআইসি) একটি সেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (৮ আগস্ট) জেআইসির গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিগত সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্র কায়েম করেছিল। সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে এই ‘আয়নাঘর’ নামে এই টর্চার সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ভিন্নমতের অনেক ব্যক্তিকে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এসব টর্চার সেলে আটকে রাখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘১/১১-এর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জেআইসি সেলে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল।’

টর্চার সেলের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ভবিষ্যতে এ ঘটনায় আরও যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

অভিযোগ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘৫ আগস্টের পর জেআইসি সেলের অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা দেয়াল দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে এবং অসংখ্য তথ্য-প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে।’

এর আগে বেলা ১১টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসের কচুক্ষেতে অবস্থিত এই বন্দিশালা পরিদর্শনে যান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারকসহ প্রসিকিউশন টিম এবং তদন্ত সংস্থার সদস্যরা।

পরিদর্শন করেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

সঙ্গে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মুহাম্মদ শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিমের অন্য সদস্য, তদন্ত সংস্থার সদস্য ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

এর আগে গত ১ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদর দফতরে এলিট ফোর্সিটির গোপন বন্দিশালা হিসেবে পরিচিত টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল পরিদর্শন করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও আইনজীবীরা। ওইদিন তারা ছোট-বড় মোট ২৯টি কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং সাতটি ডেথ সেলে বন্দিদের আটকে রেখে নির্যাতনের চিত্র সম্পর্কে ধারণা নেন।

গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের প্রেক্ষিতে র‍্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন ট্রাইব্যুনাল-১।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন