ঢাকাই চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য প্রায় তিন দশক পরও পুরোপুরি কাটেনি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘ ২৯ বছর পর সেই মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে সিআইডি। শুনানি শেষে আদালত ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেন, সালমান শাহকে হত্যার জন্য তাঁর স্ত্রী সামিরা হক ও চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই আশরাফুল হক ডনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করেছিলেন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের দাবি, সালমান শাহর স্ত্রী সামিরার সঙ্গে শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গোপন সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জেরেই সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দাবি, মামলার রাজসাক্ষী রিজভী আহমেদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এ বিষয়ে তথ্য উঠে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত নয়। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
সালমান শাহ হত্যার মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে তাঁর ভাই বিল্টুকে অপহরণের পরিকল্পনার অভিযোগও রয়েছে ডন ও ডেভিডের বিরুদ্ধে। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় ১৯৯৭ সালের ১৯ জুলাই রিজভী আহমেদ গ্রেপ্তার হন। পরে একই বছরের ২৪ জুলাই সালমান শাহ হত্যার ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
দীর্ঘ ২৯ বছর পর সালমান শাহ হত্যা মামলায় আশরাফুল হক ডনের গ্রেপ্তারকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ ও নানা রহস্য আবারও আলোচনায় এসেছে। এখন তদন্তে এসব অভিযোগের কতটা সত্যতা পাওয়া যায় এবং আদালতে সেগুলো কতটা প্রমাণিত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
কালের আলো/এসএ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬ । ৯:০৫ অপরাহ্ণ