চলচ্চিত্রে সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন অভিনেতা আশরাফুল হক ডন। পর্দায় খলচরিত্রে অভিনয়ের জন্য দর্শকের কাছে পরিচিত এই অভিনেতা বাস্তব জীবনেও ছিলেন সালমান শাহর আড্ডা ও ঘোরাঘুরির সঙ্গী। তবে প্রায় তিন দশক পর সেই ডনই এখন সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে।
গত রোববার দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান আদালতে ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে ডনসহ অন্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডন দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে হাজিরের সময় ডনকে রাগান্বিত অবস্থায় দেখা যায়। বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে তাঁকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। পরে বিচারক আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আছেন কি না জানতে চাইলে শুনানিতে ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
সালমান শাহর সঙ্গে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন ডন। শুটিংয়ের বাইরেও তাঁদের মধ্যে ছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব। এক সাক্ষাৎকারে প্রথম আলোকে ডন জানিয়েছিলেন, সালমান গাড়ি চালাতে খুব পছন্দ করতেন। দিনের কাজ শেষ হলেই তাঁরা প্রায়ই গাড়ি নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ঘুরতে বের হতেন।
বেশির ভাগ সময় তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য থাকত না। কখনো গুলশানের একটি সাধারণ রেস্তোরাঁয় গিয়ে মিল্কশেক খেতেন, আবার কখনো উত্তরার ফুটপাতের একটি চিতই পিঠার দোকানে বসতেন।
ডনের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি চালানোর সময় সালমানের গতি কিছুটা বেশি থাকত। গুলশানের ওই রেস্তোরাঁর মিল্কশেক ছিল তাঁর বিশেষ পছন্দ। এমনকি কোনো কোনো রাতে শুধু সালমানের জন্য দোকান খোলা রাখা হতো।
উত্তরার ফুটপাতের চিতই পিঠার দোকানটিও ছিল তাঁদের পছন্দের জায়গা। সেখানে এক বয়স্ক নারী পিঠা বানাতেন, যাঁকে সালমান ‘নানি’ বলে ডাকতেন। ডনের স্মৃতিচারণা অনুযায়ী, এক বসায় দুজনের প্রত্যেকে ৯ থেকে ১০টি পর্যন্ত চিতই পিঠা খেতেন।
চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন, যিনি চলচ্চিত্রে সালমান শাহ নামে জনপ্রিয়তা পান, মাত্র সাড়ে তিন বছরের অভিনয়জীবনে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরেই আত্মহত্যা নাকি হত্যা—এ নিয়ে বিতর্ক ও রহস্য রয়েছে। মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের গ্রেপ্তার নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে আলোচনায় এসেছে সালমানের সঙ্গে তাঁর পুরোনো বন্ধুত্ব ও সেইসব রাতের স্মৃতিও।
মামলাটির তদন্ত এখনো চলছে।
কালের আলো/এসএ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬ । ৬:২৯ অপরাহ্ণ