ভারতে আশ্রিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি ‘পর্যালোচনা করছে’ দেশটির সরকার। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়টি একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে ভারতের মন্তব্য কী? বর্তমানে কোনো অনুকূল পরিবেশ নেই বলে ভারতও কী মনে করে?
ওই সাংবাদিক আরও জানতে চান, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনার মামলার নথিসহ হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তসংক্রান্ত সব নথি ভারত সরকারের কাছে পাঠিয়েছে কিনা।
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমি এরই মধ্যে বলেছি, আমাদের হাইকমিশনার গতকাল (১০ আগস্ট) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আপনি যে অন্য দুটি বিষয় তুলেছেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ এবং হাদির মামলা; সেগুলোর বিষয়ে বলব, হাদির বিষয়টি একটি আইনি বিষয় এবং এ নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।’
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, ‘প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ে আমি আগেও বলেছি, এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আমাদের দেশে যে নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে, সেই অনুযায়ী আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি।’
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্ন উঠে সংবাদ সম্মেলনে। একই সঙ্গে ব্রিকস সম্মেলনের আগে তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘এর আগে ফেব্রুয়ারিতে আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। পরবর্তী সময়ে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্যও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এই দুই আমন্ত্রণের বিষয়ে যখন কোনো নতুন তথ্য থাকবে, তখন আমি আপনাদের জানাব।’
উল্লেখ্য, দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দেড় মাস পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি উঠে এসেছে।
বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার বিষয়টি উঠে এসেছে। আমরা তাদের বলেছি, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য। আমরা আশা করি, ভারত এ ব্যাপারে একটি ইতিবাচক দিকে এগোবে।’
কালের আলো/এসএকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬ । ৮:২৬ অপরাহ্ণ