আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত পাঁচ বছরে আনুমানিক ২৪ লাখ আফগান মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা— ইউনেস্কো।
তালেবান সরকার ক্ষমতায় ফেরার পঞ্চম বার্ষিকীর আগে বুধবার এক বিবৃতিতে ইউনেস্কো বলেছে, আফগানিস্তানই একমাত্র দেশ যেখানে মেয়ে ও নারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত মেয়ের সংখ্যা আরও ২ লাখ বৃদ্ধি পেয়ে ২৪ লাখে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৪০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংস্থাটি বলেছে, এই পরিস্থিতি আফগানিস্তানকে কয়েক দশক ধরে সম্ভাবনা হারানোর, আরও দারিদ্র্যের মুখোমুখি হওয়ার এবং অপূরণীয় ক্ষতির ঝুঁকিতে ফেলছে।
ইউনেস্কো হিসাব অনুযায়ী, নারীদের শিক্ষকতা পেশায় নিষেধাজ্ঞার কারণে আফগান শিক্ষা ব্যবস্থা এক চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে ১১ হাজাররের বেশি দক্ষ নারী শিক্ষকের ঘাটতি তৈরি হবে।
এছাড়াও নারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০৬৬ সালের মধ্যে ছয় লাখ আফগান নারী শ্রমশক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন। এর ফলে মোট ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার আয়ের ক্ষতি হতে পারে এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে তালেবান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করার পর ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় এলে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বারবার আশ্বস্ত করেছিল যে নারীরা অবাধে স্কুলে যেতে এবং শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন।
‘ইসলামি আইন’ এবং ‘আফগান সংস্কৃতি’র ব্যাখ্যা অনুযায়ী নারীদের অধিকারকে সম্মান করে বলেও জানায় তারা। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ২০২২ সালের মার্চে মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পরে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাও নিষিদ্ধ করা হয়।
যদিও তালেবান উভয় নিষেধাজ্ঞাকেই সাময়িক বলে বর্ণনা করেছিল, কিন্তু সেগুলো এখনো বহাল রয়েছে এবং গত ৫ বছরেও তারা এই উপযুক্ত পরিবেশের কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করেনি।
জাতিসংঘ এবং ওআইসি-সহ বিশ্বের প্রধান মুসলিম দেশগুলো বারবার স্পষ্ট করেছে যে, ইসলামে নারী শিক্ষার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার কট্টরপন্থার কারণে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬ । ৯:২৯ অপরাহ্ণ