৪৫ মামলার আসামি তৈয়ব, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ । ৮:৪৪ অপরাহ্ণ

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের বেড়িবাঁধ এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে মো. তৈয়ব আলী সর্দার (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

পুলিশ বলছে, তৈয়বের বিরুদ্ধে সারা দেশে ডাকাতি ও ছিনতাইসহ ৪৫টি মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের আরও ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় বিদেশি পিস্তল, গুলি, খেলনা পিস্তল, পুলিশের লোগোযুক্ত হ্যান্ডকাফ, র‍্যাব ও ডিবির পোশাক, ভুয়া নম্বর প্লেটসহ ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কামরাঙ্গীরচর থানার বেড়িবাঁধ এলাকায় বুড়িগঙ্গা সেতুর দক্ষিণ পাশে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তৈয়বসহ কয়েকজন। সেখানে ডিবি লালবাগ বিভাগের একটি দল অভিযান চালালে তৈয়বকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যান। তৈয়বের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান এলাকা থেকে পাভেল সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন, র‍্যাবের লোগোযুক্ত আইডি কার্ডের হোল্ডার, সেনাবাহিনীর দুটি ফিল্ড ক্যাপ, একটি কালো লেজার লাইট ও কয়েকটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, তৈয়ব ও পাভেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে উত্তরার সেন্টার পয়েন্ট এলাকার একটি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে সাইফুর রহমান, রাব্বি আলম, ইমরান হোসেন ভূঁইয়া, নুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই আস্তানা থেকে একটি কালো ওয়াকিটকি, বাংলাদেশ পুলিশের লোগোযুক্ত হ্যান্ডকাফ, গাড়ির দুটি ভুয়া নম্বর প্লেট, ‘র‍্যাব’ লেখা তিনটি ভেস্ট, ‘ডিবি’ লেখা একটি ভেস্ট, দুটি রিফ্লেক্টিং ভেস্ট, বিভিন্ন রঙের ১০টি রিফ্লেক্টিং স্টিকার, একটি পিস্তল কাভার, একটি খেলনা পিস্তল, তিনটি স্মার্টফোন ও কয়েকটি রাউটার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতি করত। বিভিন্ন সময়ে অপরাধ সংঘটনের সময় গাড়িতে ভুয়া নম্বর প্লেটও ব্যবহার করত চক্রটি। ধানমন্ডি এলাকা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি ও একাধিক নম্বর প্লেট উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাবের পরিচয় দিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক, নকল ও আসল আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে মূল্যবান সম্পদ বহনকারী ব্যক্তিদের আটকিয়ে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নিচ্ছে।

তৈয়ব সম্পর্কে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সারা দেশে ৪৫টি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। জামিনে বের হয়ে তিনি দীর্ঘদিন মাদারীপুরে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে একটি দল পরিচালনা করতেন এবং ঢাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে সরাসরি অংশও নিতেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ইমরান হোসেন ভূঁইয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপগঞ্জে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি ইতালিয়ান পিস্তল ও ছয়টি গুলি উদ্ধার করা হয়।

ডিবির দাবি, গত মে মাসে যাত্রাবাড়ীতে ২৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনতাই এবং গত ১৪ জুলাই একটি কুরিয়ার সার্ভিসের ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায়ও এই চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তৈয়ব ও পাভেলের নাম এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, তৈয়বের বিরুদ্ধে থাকা ৪৫টি মামলার প্রতিটিতেই তিনি কারাগারে গিয়েছেন। পরে তিন থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার গ্রেপ্তার করে দিচ্ছি, কিন্তু তারা জামিন পেয়ে যাচ্ছে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন