জনপ্রিয় ক্রীড়াভিত্তিক টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ইএসপিএনের প্রতিষ্ঠাতা বিল রাসমুসেন আর নেই

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ । ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়াভিত্তিক টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ইএসপিএনের প্রতিষ্ঠাতা বিল রাসমুসেন আর নেই। পার্কিনসন ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে বার্ধক্যজনিত জটিলতায় মঙ্গলবার ৯৩ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। ইএসপিএন এক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

রাসমুসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ইএসপিএনের বর্তমান চেয়ারম্যান জিমি পিটারো। তিনি বলেন, বিল ছিলেন একজন দূরদর্শী ও উদ্ভাবক, যিনি শুধু খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেটিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

১৯৭৮ সালে বিল রাসমুসেন ও তাঁর ছেলে স্কট রাসমুসেন উদীয়মান স্যাটেলাইট প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টার একটি ক্রীড়াভিত্তিক টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা করেন।

পরের বছর, ১৯৭৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ‘স্পোর্টস সেন্টার’ অনুষ্ঠান সম্প্রচারের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ইএসপিএন। তখন প্রায় ১৪ লাখ গ্রাহকের ঘরে পৌঁছেছিল নতুন এই চ্যানেল।

রাসমুসেন ছিলেন ইএসপিএনের প্রথম প্রেসিডেন্ট। ১৯৭৯ সালের জুলাইয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও নেন। তবে ১৯৮০ সালের অক্টোবরে সংস্থাটির সক্রিয় ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

টেলিভিশনে ২৪ ঘণ্টার ক্রীড়া সম্প্রচারের ধারণাকে জনপ্রিয় করে তোলার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন রাসমুসেন। তাঁর হাত ধরেই এনসিএএ পুরুষ বাস্কেটবল টুর্নামেন্টের সরাসরি সম্প্রচারের মতো উদ্যোগও শুরু হয়।

শুরুতে মাত্র ৮০ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা করা ইএসপিএন বর্তমানে বৈশ্বিক ক্রীড়া সম্প্রচারের অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে একাধিক টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, বৈশ্বিক স্পোর্টস অ্যাপ ও অডিও সেবা।

ক্রীড়া সম্প্রচারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে ‘স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং হল অব ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত হন রাসমুসেন।

এ ছাড়া মার্কিন ক্রীড়া ইতিহাসের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকা ‘স্পোর্টস ১০০’-তেও জায়গা করে নেন তিনি।

একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ধারণা থেকে আজকের বৈশ্বিক ক্রীড়া সাম্রাজ্য—ইএসপিএনের জন্ম ও বিকাশের সঙ্গে বিল রাসমুসেনের নাম তাই চিরস্থায়ীভাবেই জড়িয়ে থাকবে।

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন