লিওনেল মেসির জীবনে এখন সময় যেন দুই ভাগে বিভক্ত—বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর আগে ও পরে। বাবার মৃত্যুর পর তৃতীয় ম্যাচে এসে অবশেষে গোল পেলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। আর গোলটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকল গভীর আবেগ।
ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে ২৬ মিনিটে গোলটি করেন মেসি। ডান প্রান্ত থেকে বল পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জটলার মধ্য থেকে কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান তিনি।
গোলের পর দুই হাতের অনামিকা আকাশের দিকে তুলে প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসি ও দাদি সেলিয়া অলিভেরাকে স্মরণ করেন মেসি। তাঁর ফুটবলজীবনে দুজনেরই ছিল গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ছোটবেলায় দাদি তাঁকে নিয়মিত মাঠে নিয়ে যেতেন। আর বাবা ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রধান পথপ্রদর্শক।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত ৮ আগস্ট মারা যান মেসির বাবা। এরপর আগের দুই ম্যাচে গোল পাননি তিনি। প্রথম ম্যাচে লিওনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে লিগস কাপ থেকে বিদায় নেয় মায়ামি। পরের ম্যাচে ন্যাশভিলের কাছে ৪-১ গোলে হারে দলটি। ওই ম্যাচে পেনাল্টিও মিস করেছিলেন মেসি।
ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে শুধু গোলই নয়, মায়ামির প্রথম গোলেও অবদান ছিল মেসির। বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ তৈরি করে তিনি ড্যানিয়েল পিন্টারের গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন।
ম্যাচে ফিলাডেলফিয়ার হয়ে ১১ মিনিটে ইন্ডিয়ান ভাসিলেভ এবং ৫৮ মিনিটে নিল পিয়ের গোল করেন। ভিএআরের হস্তক্ষেপে স্বাগতিকদের একটি গোলও বাতিল হয়।
এই গোলের মাধ্যমে এমএলএসে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩-তে। সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি উঠে এসেছেন দ্বিতীয় স্থানে। এফসি ডালাসের পেতার মুসার চেয়ে মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন মেসি।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে লাল কার্ড দেখেন ইন্টার মায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট ও ফিলাডেলফিয়ার ১৬ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার কাভান সুলিভান।
ঘটনার সূত্রপাত কাভানের ভাই কুইন সুলিভান ও মায়ামির ইয়ান ফ্রের মধ্যে বাদানুবাদ থেকে। পরে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন কাভান ও ব্রাইট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর দুজনকেই লাল কার্ড দেখান রেফারি। কুইন সুলিভান দেখেন হলুদ কার্ড।
লাল কার্ডের কারণে ২২ আগস্ট ফিলাডেলফিয়ার পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না কাভান। তবে তরুণ এই ফুটবলারের সামনে রয়েছে বড় ভবিষ্যৎ। ১৮ বছর বয়সে তিনি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেবেন। ২০২৬ সালে ফিলাডেলফিয়ার হয়ে নিয়মিত খেলছেন তিনি এবং এরই মধ্যে দুটি গোলও করেছেন।
মেসির জন্য অবশ্য এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল গোলটি। বাবার মৃত্যুর পর প্রথম গোল—তাই ক্যারিয়ারের ৯২১তম এই গোলটি অন্য সব গোলের চেয়ে তাঁর কাছে নিঃসন্দেহে আলাদা আবেগের হয়ে থাকবে।
কালের আলো/এসএ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬ । ৩:২৭ অপরাহ্ণ