ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকেই কঠোর ডায়েট শুরু করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন খুব কম খেয়ে বা পছন্দের খাবার বাদ দিয়ে চলা সবার জন্য সহজ নয়। বরং প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাস নিয়মিত মেনে চললে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কতটা খাচ্ছেন, কতটা নড়াচড়া করছেন এবং ঘুমের মতো দৈনন্দিন অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডায়েটের পাশাপাশি জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
১. প্রতিদিন কিছুটা হাঁটুন
ব্যায়ামের জন্য আলাদা সময় বের করা কঠিন হলে দিনের বিভিন্ন সময়ে হাঁটার সুযোগ তৈরি করুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার, কাছাকাছি জায়গায় গাড়ি না নিয়ে হেঁটে যাওয়া কিংবা খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটা—এ ধরনের ছোট ছোট অভ্যাস দৈনিক শারীরিক সক্রিয়তা বাড়াতে পারে।
২. খাবারের পরিমাণের দিকে নজর দিন
স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে শরীরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালরি জমতে পারে। তাই বড় প্লেটের বদলে তুলনামূলক ছোট প্লেটে খাবার নেওয়া এবং দ্বিতীয়বার নেওয়ার আগে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা উপকারী অভ্যাস হতে পারে।
৩. ধীরে ধীরে খাবার খান
তাড়াহুড়ো করে খেলে শরীরের পেট ভরে যাওয়ার সংকেত বুঝতে সময় লাগতে পারে। তাই খাবার ধীরে খাওয়া এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।
৪. পানি পান করতে ভুলবেন না
অনেক সময় তৃষ্ণাকে ক্ষুধা বলে মনে হতে পারে। তাই দিনের শুরু থেকে নিয়মিত পানি পান করা জরুরি। তবে শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পানি পান করারও দরকার নেই। গরমে, শারীরিক পরিশ্রমে বা বেশি ঘাম হলে পানির প্রয়োজন বাড়তে পারে।
৫. ঘুমকে গুরুত্ব দিন
ঘুমের ঘাটতি ক্ষুধা ও খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষায় প্রভাব ফেলতে পারে। রাতে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার চেষ্টা করা ভালো।
৬. অপ্রয়োজনীয় নাশতা কমান
টেলিভিশন দেখা, কাজ করা কিংবা মোবাইল ব্যবহার করার সময় অজান্তেই অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলার প্রবণতা অনেকের থাকে। ক্ষুধা না লাগলেও শুধু অভ্যাসবশত খাওয়ার বদলে সত্যিই ক্ষুধা পেয়েছে কি না, তা আগে বোঝার চেষ্টা করুন।
৭. দীর্ঘ সময় বসে থাকবেন না
একটানা কয়েক ঘণ্টা বসে থাকা দৈনন্দিন শারীরিক সক্রিয়তা কমিয়ে দেয়। অফিসে বা বাড়িতে কাজের সময় মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়ানো, একটু হাঁটা কিংবা হালকা স্ট্রেচিং করার অভ্যাস করুন। এতে দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার প্রবণতা কমবে।
ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সবার একই ধরনের খাবার বা জীবনযাপন প্রয়োজন হয় না। বয়স, শারীরিক অবস্থা, কাজের ধরন ও অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। তাই দ্রুত ওজন কমানোর কঠোর ডায়েটের বদলে দীর্ঘমেয়াদে অনুসরণ করা যায়—এমন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আর ওজন দ্রুত বাড়তে থাকলে বা ওজন নিয়ে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কালের আলো/এসএ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ । ৭:৫৭ অপরাহ্ণ