ঐতিহ্য সংরক্ষণে সংস্কৃতি-পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যৌথ কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ । ৩:২৬ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত করে এ খাতের উন্নয়নে একক নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই এবং একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তিনি বলেন, দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এমওইউ সইয়ের মাধ্যমে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি সাংস্কৃতিক পর্যটনের জন্য একটি সমন্বিত ও একক নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করবে। এর ফলে সংস্কৃতি ও পর্যটন খাতের মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার একটি কাঠামো তৈরি হবে।

পর্যটনমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরে দেশটির পর্যটন ও সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণ এবং সংস্কৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। বাংলাদেশেও একই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী জমিদারবাড়ি, কক্সবাজারের বৌদ্ধ নিদর্শন এবং ময়নামতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাকে পর্যটনকেন্দ্রিক পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাকেও এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পর্যটন খাত দেশের জিডিপিতে প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশ অবদান রাখছে। দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ অবদান ৭ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ পর্যটনকে কেন্দ্র করে নিজেদের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি গড়ে তুলেছে। থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও মালদ্বীপ এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

তিনি বলেন, পর্যটন ও সংস্কৃতি পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে দুই মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করতে চায়। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে যথাযথভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে আরও শক্ত অবস্থানে নেওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

কালের আলো/এমএসআইপি/ডিএইচ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন