রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সুষম খাদ্যাভ্যাস শরীরে গ্লুকোজের ব্যবহার, ইনসুলিনের কার্যকারিতা এবং খাবারের পর রক্তে শর্করা বৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ম্যাগনেসিয়াম রাখা উপকারী হতে পারে। ডিম, মাছ, মুরগি ও পনিরের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে খেলে খাবারের পর গ্লুকোজ দ্রুত বাড়ার প্রবণতা কিছুটা কমাতে পারে।
এ ছাড়া দ্রবণীয় ফাইবার হজম ও গ্লুকোজ শোষণের গতি ধীর করতে সহায়তা করে। বেরি, কিউই, অ্যাভোকাডো, পালং শাক ও লাউয়ের মতো খাবার থেকে ফাইবার পাওয়া যায়।
তৈলাক্ত মাছ ও আখরোটে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সরাসরি রক্তে শর্করা কমায় না। তবে এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বিপাকীয় স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে।
গ্লুকোজ বিপাকের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ম্যাগনেসিয়ামেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শাকসবজি, বাদাম, বীজ ও মাছ ম্যাগনেসিয়ামের ভালো খাদ্য উৎস। তবে শুধু রক্তে শর্করা বেশি থাকার কারণে নিজে থেকে ম্যাগনেসিয়াম বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়।
অন্যদিকে, আয়রনের ঘাটতি থাকলে HbA1c পরীক্ষার ফল কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত অবস্থার তুলনায় বেশি দেখা যেতে পারে। তবে HbA1c কমানোর উদ্দেশ্যে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়, কারণ অতিরিক্ত আয়রনও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সব মিলিয়ে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কোনো একটি ‘জাদুকরী’ পুষ্টি উপাদানের ওপর নির্ভর না করে প্রোটিন, ফাইবার, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রয়োজনীয় খনিজসমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস থাকলে খাদ্যাভ্যাস বা সাপ্লিমেন্টে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কালের আলো/এমএসআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ । ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ