শিশুদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে নতুন নিয়ম

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ । ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ

শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে বড় ধরনের আইনি চাপের মুখে পড়েছে Meta Platforms। যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যের করা মামলায় প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় যেতে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মামলার কেন্দ্রে ছিল-১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য কীভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার করা হয়েছে এবং ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেটা যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছিল কি না।

তবে সমঝোতায় রাজি হলেও কোনো অন্যায় করার কথা স্বীকার করেনি মেটা।

মামলার পেছনে কী অভিযোগ?

প্রায় ৩০ বছর পুরোনো মার্কিন শিশু অনলাইন গোপনীয়তা আইনের আওতায় মামলাটি করা হয়। অভিযোগ ছিল, শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে মেটার নীতিমালা ও কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

মামলার শুনানি শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় সমঝোতার সিদ্ধান্ত আসে। মেটার প্রধান নির্বাহী Mark Zuckerberg সাক্ষ্য দেওয়ার আগেই বিচার কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়।

মামলায় সাবেক মেটা কর্মী ও হুইসেলব্লোয়ার আর্তুরো বেজার দাবি করেন, তিনি শিশুদের অনলাইন ক্ষতির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কিশোরদের জন্য নতুন নিয়ম

সমঝোতার অংশ হিসেবে কিশোরদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বেশ কিছু নতুন বিধিনিষেধ চালুর পরিকল্পনা করেছে মেটা।

নতুন ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • দিনে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার;
  • রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নোটিফিকেশন বন্ধ;
  • স্কুল চলাকালে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নোটিফিকেশন বন্ধ;
  • কিশোরদের পোস্টে কে লাইক দিয়েছে, তা অন্যদের দেখানো হবে না;
  • শিশু ও কিশোর ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে।

তবে মেসেজ আদান-প্রদানের সময় দৈনিক দুই ঘণ্টার ব্যবহারের হিসাবের মধ্যে ধরা হবে না।

মেটা জানিয়েছে, বেশিরভাগ নতুন নিয়ম আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবহারকারীর বয়স শনাক্ত করার নতুন ব্যবস্থা চালু করতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

শুধু মেটা নয়, চাপ বাড়তে পারে অন্য প্ল্যাটফর্মেও

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে এই আইনি লড়াই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তে থাকা চাপের একটি বড় উদাহরণ।

মেটার পাশাপাশি TikTok ও Snap Inc.-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ বাড়তে পারে।

বিশেষ করে শিশুদের বয়স যাচাই, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ঝুঁকি কমানো এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

এক ট্রিলিয়ন ডলারের ঝুঁকিও ছিল

মেটা মামলায় হেরে গেলে সম্ভাব্য জরিমানার অঙ্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। কিছু হিসাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ জরিমানা এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারত।

সেই তুলনায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা মেটার জন্য বড় অঙ্ক হলেও সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আইনি ক্ষতির তুলনায় অনেক কম।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নতুন নিয়মগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে?

সাবেক ইনস্টাগ্রাম কর্মী আর্তুরো বেজারের মতে, শুধু নতুন নিয়ম চালু করাই যথেষ্ট নয়। এসব ব্যবস্থায় শিশু-কিশোরদের অনলাইন অভিজ্ঞতা সত্যিই নিরাপদ হচ্ছে কি না, সেটিও নিয়মিতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি শুধু কতক্ষণ তারা অনলাইনে থাকছে-এতটুকুতে সীমাবদ্ধ নয়। তারা কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তাদের তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম তাদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে-এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন