নাইজারের রাজধানীতে গোলাগুলি-বিস্ফোরণ, বিমানবন্দরে হামলার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ । ১২:৩৬ অপরাহ্ণ

নাইজারের রাজধানী নিয়ামের বিভিন্ন এলাকায় শনিবার ভোরে টানা গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলার প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। রয়টার্সের দুই প্রত্যক্ষদর্শী এ তথ্য জানিয়েছেন।

একটি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, ‘সন্ত্রাসীরা’ নিয়ামের দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের চারপাশের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে ভেতরে ঢোকারও চেষ্টা করা হয়েছে।

নাইজারের পরামর্শক পরিষদের সদস্য ও সাহেল রাষ্ট্র জোটের সংসদের ডেপুটি বানা ওয়াগানা ইব্রাহিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, হামলাকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা বেস ১০১-কে লক্ষ্য করেছিল। তবে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

ইব্রাহিম বলেন, ‘বেস ১০১-এর ওপর আরেকটি হামলা হয়েছে। আবারও আমাদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।’

তবে নিরাপত্তা সূত্র ও ইব্রাহিমের দেওয়া তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

আরেকটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, হামলার পর রাজধানীতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। কয়েকজন হামলাকারীকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে এবং অন্যরা পালিয়ে গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

রয়টার্সের দ্বিতীয় প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রেসিডেন্টের বাসভবনের আশপাশে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। প্রথম প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, স্থানীয় সময় রাত ২টা ১৩ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে আবারও গোলাগুলি শুরু হয়।

হামলার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য নাইজারের সামরিক সরকারের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পশ্চিম আফ্রিকার খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ নাইজারে ইউরেনিয়াম, তেল ও সোনার উল্লেখযোগ্য মজুদ রয়েছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটি সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে।

জেনারেল আবদুরাহমান তিয়ানির নেতৃত্বাধীন সামরিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কমিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি মালি ও বুর্কিনা ফাসোর সঙ্গে মিলে সাহেল রাষ্ট্র জোট গঠন করেছে নাইজার। তিন দেশই পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াস থেকে বেরিয়ে গেছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিলেও নাইজার, মালি ও বুর্কিনা ফাসোতে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই এখনো চলছে।

নাইজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিল এমন সময়ে, যখন সামরিক সরকার দেশটির ইউরেনিয়াম খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে।

ফ্রান্সের ওরানো কোম্পানির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার পর দেশটির সরকার ইউরেনিয়াম শিল্পে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। সম্প্রতি জারি করা এক ডিক্রি অনুযায়ী, ওরানো ও গোভিএক্সের সাবেক ইউরেনিয়াম পারমিট রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পুনরায় বরাদ্দ করা হয়েছে।

২০২৪ সালে ওরানোর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আগে নাইজার ইউরোপের পারমাণবিক জ্বালানির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী ছিল। পূর্ণ সক্ষমতায় নাইজার থেকে পাওয়া ইউরেনিয়াম ওরানোর মোট সরবরাহের প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছিল।

এদিকে চলতি বছরের মার্চে নাইজারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এবং জানুয়ারিতে নিয়ামের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে পৃথক হামলায় অন্তত ৪৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

রাজধানীতে সর্বশেষ গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন