বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, সতর্ক করা হলো তীরবর্তী বাসিন্দাদের

রাংগামাটি প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ । ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাটের খোলার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে গেটগুলোর ওপেনিং ২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৩ ফুট করা হয়।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু থাকায় সেখান থেকেও প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে মোট প্রায় ৯০ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় রোববার ভোর ৬টার দিকে ১৬টি জলকপাট ২ ফুট করে খোলা হয়। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় সকালে গেটগুলোর ওপেনিং আরও ১ ফুট বাড়িয়ে ৩ ফুট করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু হয়। তখন প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হচ্ছিল। পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে গেটগুলোর খোলার পরিমাণ বাড়িয়ে ১ ফুট করা হয়। রোববার ভোরে তা ২ ফুট এবং সকাল ১০টার দিকে ৩ ফুট করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ায় বাঁধের ওপর চাপ কমানো এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেটগুলোর ওপেনিং বাড়ানো হচ্ছে। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে আসা পানির পরিমাণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ আরও বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে স্পিলওয়ের গেট দিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর পানির উচ্চতা বাড়তে পারে। এ কারণে কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন