কিশোরগঞ্জের উন্নয়নে ‘সমন্বয়ের রাজনীতি’, প্রশাসন-পুলিশকে একসঙ্গে কাজের আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ । ৯:২৯ অপরাহ্ণ

কিশোরগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, শহরের যানজট নিরসন এবং সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলো মোকাবিলায় প্রশাসন, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জেলার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নসহ সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

দায়িত্ব পাওয়ার পর কিশোরগঞ্জে প্রথমবারের মতো আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে জেলার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মতে, শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়—রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার সমন্বয়েই জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমস্যা শুনলেন, দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস
সভায় কিশোরগঞ্জের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, শহরের যানজট এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য শোনেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। জেলার রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যেও উঠে আসে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, জনদুর্ভোগ এবং সাম্প্রতিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়। প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত সবার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর বলেন, জেলার সাম্প্রতিক আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিশোরগঞ্জের সার্বিক সমস্যা সমাধানে সরকার ও প্রশাসন কার্যকরভাবে কাজ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

শুরুতেই গুরুত্বের সঙ্গে যে কাজটি করলেন প্রতিমন্ত্রী
বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম মতবিনিময় সভাতেই জেলার আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক দুর্ভোগের বিষয়গুলো সরাসরি শোনা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নিরাপদ পরিবেশ, নির্বিঘ্ন চলাচল এবং মাদকমুক্ত সামাজিক পরিবেশও একটি জেলার টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী শুরুতেই এই কাজটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ, কঠোর পদক্ষেপের দাবি
জেলা প্রশাসক (ডিসি) সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এ সময় মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর আলম হত্যাকাণ্ডসহ জেলার সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা, নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল এবং হত্যার হুমকির বিষয়গুলো তুলে ধরে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির নেতারা।

  • আইনশৃঙ্খলা, মাদক, যানজট ও সাম্প্রতিক সহিংসতা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের তাগিদ
  • প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা চান রাজনৈতিক নেতারা

রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে মূলত একটি বিষয়ই স্পষ্ট হয়ে ওঠে—সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো মোকাবিলায় প্রশাসনের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও কঠোর এবং জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এ ধরনের দাবি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কোনো জেলার স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ড, হুমকি, নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ড কিংবা মাদক বিস্তারের মতো বিষয়গুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

যানজট-মাদকেও নজর জরুরি
কিশোরগঞ্জ শহরের যানজটও সভায় আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। শহরের সড়কব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান চাপ, অপরিকল্পিত পার্কিং, সড়কের জায়গার যথাযথ ব্যবহার এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা জনজীবনে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, মাদকের বিস্তারও শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও বড় বাধা। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং তরুণদের জন্য ইতিবাচক কর্মসংস্থান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

সমস্যা সমাধানে জোর সমন্বয়ে
জেলার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নসহ সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর এই সভা থেকে একটি বার্তাটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে এসেছে সেটি হলো—কিশোরগঞ্জের সমস্যা সমাধানে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রশাসনের হাতে রয়েছে নীতিগত ও নির্বাহী ক্ষমতা, পুলিশের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আর রাজনৈতিক নেতৃত্বের রয়েছে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও স্থানীয় বাস্তবতা তুলে ধরার সুযোগ। এই তিন পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকলে অনেক সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব।

দলমতের ঊর্ধ্বে কিশোরগঞ্জের স্বার্থ
সভা শেষে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। কিশোরগঞ্জের সামনে উন্নয়নের সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে আইনশৃঙ্খলা, মাদক, যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগের মতো বাস্তব চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; কিন্তু জেলার নিরাপত্তা, মানুষের স্বাভাবিক জীবন এবং উন্নয়নের প্রশ্নে একটি অভিন্ন অবস্থান জরুরি। তথ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রথম মতবিনিময় সভা সেই সমন্বিত উদ্যোগের একটি প্রাথমিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। সভায় উত্থাপিত সমস্যাগুলো যত দ্রুত বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়া এবং প্রশাসন-পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয় আরও কার্যকর করার কোন বিকল্প নেই বলে মনে করেন কিশোরগঞ্জবাসী।

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন