চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসে ব্যাপক প্রাণহানির পর তিব্বতে তথ্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা বন্যার কাঁচা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি উদ্ধার তৎপরতার খবর দিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো ভরিয়ে তোলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ কাদাধস ও পানির স্রোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। নেপালে এর প্রভাবে শত শত মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তিব্বতের গিরং বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত স্থাপনাও পানির স্রোত ও ধ্বংসাবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটে স্থানীয় এক ব্লগার গিরং বন্দরের ধ্বংসের একটি ভিডিওসহ ঘটনার বর্ণনা প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে আতঙ্কিত মানুষ, এমনকি শিশুদেরও প্রবল স্রোত থেকে পালাতে দেখা যায়। তবে প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই পোস্ট ও ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়।
চীনভিত্তিক সেন্সরশিপ পর্যবেক্ষক সংগঠন চায়না ডিজিটাল টাইমসের মতে, ভিডিওটি ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমেও শেয়ার করা যাচ্ছিল না। বিশ্লেষকদের ধারণা, চীনের অনলাইন নজরদারি এখন শুধু লেখা বা নির্দিষ্ট শব্দ শনাক্ত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; ভিডিও ফিঙ্গারপ্রিন্টিং, ইমেজ হ্যাশিং ও মেশিন-লার্নিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট দৃশ্যও শনাক্ত করে আটকে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে চীনা প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিপর্যয়ের স্বাধীন ও প্রত্যক্ষ ভিডিওর পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, উদ্ধার তৎপরতার ছবি, মানচিত্র ও ড্রোন ফুটেজ বেশি দেখা যাচ্ছে। ফলে সরকারি বয়ানই অনলাইনে প্রাধান্য পাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের দাবি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবুতেও বন্যা নিয়ে আলোচনার দিক পরিবর্তন করে দ্রুত সরকারি উদ্ধার কার্যক্রমকে সামনে আনা হয়। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নির্দেশনা এবং প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের ঘটনাস্থলে যাওয়ার খবর ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়।
সমালোচকদের মতে, এভাবে তথ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে দুর্যোগের প্রকৃত মাত্রা ও সরকারের সম্ভাব্য ব্যর্থতা নিয়ে জনমত গড়ে ওঠা ঠেকানো হচ্ছে।
কালের আলো/এসএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ