কবি জীবনানন্দ দাশের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে নতুন সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন ভারতের নির্মাতা গৌতম ঘোষ ও বাংলাদেশের প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘মনের মানুষ’ ও ‘শঙ্খচিল’-এর পর এটি হতে যাচ্ছে এই দুই নির্মাতার নতুন যৌথ উদ্যোগ।
নাম চূড়ান্ত না হওয়া সিনেমাটি বিশিষ্ট লেখক ও ঔপন্যাসিক শাহাদুজ্জামানের ‘একজন কমলালেবু’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হবে। জীবনানন্দের জীবন, সাহিত্য, ব্যক্তিগত টানাপোড়েন ও অন্তর্দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই এগোবে গল্প।
সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল রেডিও গাগাকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে হাবিবুর রহমান খান জানান, সিনেমাটি নিয়ে গৌতম ঘোষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। গৌতম ইতোমধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জীবনানন্দকে নিয়ে গবেষণা করছেন এবং লন্ডনে শাহাদুজ্জামানের সঙ্গেও এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন।
হাবিবুর বলেন, ‘গৌতম ও আমি দুজনই সিনেমাটি নিয়ে ভীষণভাবে আচ্ছন্ন। আমরা প্রায়ই ফোনে এ নিয়ে আলোচনা করি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন।’
সিনেমায় জীবনানন্দের চরিত্রে কে অভিনয় করবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে একটি বিষয়ে শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট—জীবনানন্দের চরিত্রে অভিনয় করবেন একজন বাংলাদেশি অভিনেতা।
হাবিবুর জানান, এ বিষয়ে গৌতম ঘোষের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং নির্মাতাও এতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে সম্ভাব্য অভিনেতার নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
জীবনানন্দের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, কবি ও গবেষক ভূমেন্দ্র গুহর চরিত্রে অভিনেতা আফজাল হোসেনকে নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন হাবিবুর।
জীবনানন্দের মৃত্যুর পর তার বহু অপ্রকাশিত কবিতা, গল্প ও উপন্যাস সংরক্ষণ ও সম্পাদনার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ভূমেন্দ্র গুহ। কবির মৃত্যুর পর ট্রাঙ্কে পড়ে থাকা বহু অপ্রকাশিত রচনাও তিনি সংরক্ষণে সহায়তা করেন।
‘একজন কমলালেবু’ উপন্যাসে জীবনানন্দের জীবন ও সাহিত্যিক পথচলার নানা বৈপরীত্য তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে উপন্যাসটি মঞ্চেও রূপান্তরিত হয়েছে। সেখানে কবির সাহিত্যিক সংগ্রাম, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং জীবদ্দশায় পাওয়া অবহেলা ও প্রত্যাখ্যানের বিষয়গুলো উঠে আসে।
নতুন সিনেমাটির মধ্য দিয়ে গৌতম ঘোষ ও হাবিবুর রহমান খানের দীর্ঘ সৃজনশীল সম্পর্কও আরও এক ধাপ এগোবে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, লালন শাহকে নিয়ে ‘মনের মানুষ’ এবং দেশভাগের প্রেক্ষাপটে ‘শঙ্খচিল’—তাদের আগের উল্লেখযোগ্য যৌথ কাজ।
স্বাধীন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিক থেকেই প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত হাবিবুর রহমান খান। ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ (১৯৭৩)-এর অন্যতম প্রযোজক ছিলেন তিনি। পরে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রও প্রযোজনা করেছেন।
জীবনানন্দকে নিয়ে সিনেমাটিকে নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন হিসেবে উল্লেখ করেছেন হাবিবুর। তিনি বলেন, ‘আমি এই সিনেমাটি বানানোর স্বপ্ন দেখি। এটি শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি বেঁচে থাকব কি না জানি না। তবে সিনেমাটি শেষ করে যদি মারা যাই, তবুও আমার কোনো আফসোস থাকবে না।’
জীবনানন্দ দাশ জীবদ্দশায় যে অবহেলা ও কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন, সিনেমাটির মাধ্যমে সেই ইতিহাসের মুখোমুখি হতে চান হাবিবুর। তার বিশ্বাস, কবির প্রতি জাতির যে অবিচার, এই চলচ্চিত্র হয়তো তার জন্য সামান্য হলেও ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
কালের আলো/এসএ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১২:৪৯ অপরাহ্ণ