ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ৫ ট্রান্সফার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১:৩৯ অপরাহ্ণ

ফুটবলের ট্রান্সফার বাজারে অর্থের অঙ্ক দিন দিনই বাড়ছে। একেকটি দলবদলে খরচ হচ্ছে শত শত মিলিয়ন ইউরো। বড় অঙ্কের এসব চুক্তির কোনোটি এনে দিয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাফল্য, আবার কোনোটি পরিণত হয়েছে হতাশার প্রতীকে।

সর্বকালের সবচেয়ে দামি পাঁচ ট্রান্সফারের তালিকায় রয়েছেন নেইমার, কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, আলেক্সান্ডার ইসাক ও ব্র্যাডলি বারকোলা।

৫. ব্র্যাডলি বারকোলা — পিএসজি থেকে লিভারপুল (€১৪০ মিলিয়ন)

মোহামেদ সালাহর বিদায়ের পর ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে আক্রমণভাগ শক্তিশালী করার প্রয়োজন পড়ে লিভারপুলের। সরাসরি সালাহর বিকল্প না খুঁজে আক্রমণভাগে আরও বিকল্প তৈরি করার পরিকল্পনা নেয় তারা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পিএসজি থেকে ব্র্যাডলি বারকোলাকে দলে ভেড়ায় ইংলিশ ক্লাবটি।

২৩ বছর বয়সী বারকোলা পিএসজির টানা দুই চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী দলের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। গতি, ড্রিবলিং এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দেওয়ার দক্ষতার কারণে লিভারপুলের নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলার আক্রমণাত্মক কৌশলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

৪. আলেক্সান্ডার ইসাক — নিউক্যাসল থেকে লিভারপুল (€১৪৫ মিলিয়ন)

গ্রীষ্মের দলবদলের শেষ দিনে আলেক্সান্ডার ইসাককে দলে এনে নতুন ব্রিটিশ ট্রান্সফার রেকর্ড গড়ে লিভারপুল। নিউক্যাসল ইউনাইটেড নিজেদের দাবিতে অনড় থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে সুইডিশ স্ট্রাইকারকে ছাড়তে রাজি হয়।

নিউক্যাসলের হয়ে দুই দুর্দান্ত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ৪৪ গোল করেছিলেন ইসাক। তাঁর নিখুঁত ফিনিশিং ও গোল করার দক্ষতার কারণে কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরির সঙ্গেও তুলনা করা হয়েছে তাঁকে।

তবে লিভারপুলে তাঁর শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি। ডিসেম্বরেই পা ভেঙে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে চলে যান এই স্ট্রাইকার।

৩. উসমান দেম্বেলে — বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে বার্সেলোনা (€১৪৮ মিলিয়ন)

২০১৭ সালে উসমান দেম্বেলেকে দলে নিয়ে বড় অঙ্কের ঝুঁকি নিয়েছিল বার্সেলোনা। তখনই তাঁর মধ্যে বিশ্বসেরা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ক্যাম্প ন্যুতে ছয় বছরের অধ্যায়ে বারবার চোট ও ফিটনেস সমস্যায় সেই সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটেনি।

শেষ পর্যন্ত তাঁকে পিএসজির কাছে ছেড়ে দেয় বার্সেলোনা। প্যারিসে গিয়ে অবশ্য বদলে যায় দেম্বেলের ক্যারিয়ারের গল্প। লুইস এনরিকের অধীনে দুই পায়েই সমান দক্ষ এই উইঙ্গারকে আরও বহুমুখী সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

পরবর্তীতে ব্যালন ডি’অর জিতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন দেম্বেলে। ফলে ২০১৭ সালে তাঁকে নিয়ে বার্সেলোনার বড় অঙ্কের বিনিয়োগ পুরোপুরি ভুল ছিল—এমনটা বলার সুযোগ নেই।

২. কিলিয়ান এমবাপ্পে — মোনাকো থেকে পিএসজি (€১৮০ মিলিয়ন)

একজন খেলোয়াড়ের পেছনে ১৮০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করা যে কোনো ক্লাবের জন্যই বড় ঝুঁকি। তবে কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্ষেত্রে পিএসজির সেই বিনিয়োগকে ব্যর্থ বলা কঠিন।

২০১৭ সালে মোনাকো থেকে প্যারিসে যাওয়ার পর সাত বছর পিএসজির জার্সিতে খেলেছেন এমবাপ্পে। এই সময়ে ৩০৮ ম্যাচে করেছেন ২৫৬ গোল। এর মাধ্যমে ক্লাবটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও দখল করেন ফরাসি তারকা।

পিএসজিতে থাকা সময়ে একটি মৌসুম ছাড়া প্রতিবারই লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিততে না পারলেও ঘরোয়া ফুটবলে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন তিনি এবং পিএসজির হয়ে জিতেছেন ১৬টি ট্রফি।

১. নেইমার — বার্সেলোনা থেকে পিএসজি (€২২২ মিলিয়ন)

ফুটবলের ট্রান্সফার বাজারের চেহারাই বদলে দেওয়া চুক্তি। ২০১৭ সালে বার্সেলোনা থেকে নেইমারকে €২২২ মিলিয়নে দলে নেয় পিএসজি। আজও এটিই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ট্রান্সফার।

বার্সেলোনায় থাকতেই চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা নেইমার প্যারিসে গিয়ে হয়ে ওঠেন পিএসজির সবচেয়ে বড় তারকা। কিন্তু বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত সাফল্য পুরোপুরি এনে দিতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

চোটের কারণে বারবার মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। সবচেয়ে বড় আক্ষেপ, পিএসজিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে পারেননি নেইমার। ২০২০ সালে দলটি ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি।

ফলে €২২২ মিলিয়নের নেইমার-চুক্তি শুধু ফুটবলের সবচেয়ে দামি দলবদলই নয়, একই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ‘যদি’ তৈরি করা ট্রান্সফারগুলোরও একটি।

কালের আলো/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন