নতুন জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হলে দেশে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের সবার বেতন দ্বিগুণ হবে—বিষয়টি এমন নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নতুন পে-স্কেলের কারণে বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতির কিছুটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নতুন বেতনস্কেল না হওয়ায় অনেক সরকারি কর্মচারীর বেতন নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে নতুন স্কেলের কাছাকাছি চলে গেছে। ফলে নতুন স্কেল কার্যকর হলেও অনেকের বেতন প্রত্যাশিত হারে বাড়বে না।
‘নতুন স্কেলে বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে’—এমন তথ্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এতে সবার বেতন দ্বিগুণ হওয়ার ধারণা তৈরি হতে পারে। বাস্তবে অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মচারী ইতোমধ্যে নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের কারণে নতুন স্কেলের কাছাকাছি বেতন পাচ্ছেন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক তার নীতিগত বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করবে। পাশাপাশি সরকারও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেবে।
মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, বছরের শেষ নাগাদ ৪০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। গড়ে পাঁচজন সদস্য হিসেবে প্রায় দুই কোটি মানুষ এ কর্মসূচির আওতায় আসবেন।
এ ছাড়া খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি, ওএমএস ও টিসিবির পণ্য বিক্রির আওতা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিদ্যুতের সংকট কমে এলে বিনিয়োগ বাড়বে। এর ফলে মানুষের দুর্ভোগও কমে আসবে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১:৩৮ অপরাহ্ণ